পবিত্র রমজান মাসের আবহেই দীর্ঘ তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। আগামী ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যর্থতা পেছনে ফেলে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ছন্দ ফিরে পাওয়াই এখন টাইগারদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করতে হলে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা নয়টি দলের মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজটি র্যাঙ্কিংয়ের পয়েন্ট অর্জনে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মিরাজ জানিয়েছেন, এ বছর নির্ধারিত ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ তাদের জন্য বড় সুযোগ এবং সামনের প্রতিটি ম্যাচেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা তাদের জন্য জরুরি।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজে বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞ লিটন দাস ও আফিফ হোসেনকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়ানডেতে দীর্ঘদিনের অফ-ফর্ম কাটিয়ে চেনা ছন্দে ফেরাই এখন লিটনের সামনে বড় পরীক্ষা। কোচ ফিল সিমন্স লিটনকে পাঁচ নম্বর পজিশনে খেলানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে উইকেটকিপিংয়ের পর তিনি কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পান।
অন্যদিকে, পাকিস্তান দলও এই সিরিজের মাধ্যমে নতুন করে শুরু করতে চাইছে। তারা ছয়জন অনভিষিক্ত ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দলে জায়গা দিয়েছে, যার মধ্যে সাহিবজাদা ফারহানের মতো পরিচিত নামও রয়েছে। অচেনা ও তরুণ পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের হালকাভাবে না নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞ বোলিং বিভাগ দিয়েই তাদের মোকাবিলা করতে চায় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান এবং রিশাদ হোসেনদের নিয়ে গড়া বোলিং আক্রমণই হবে এই সিরিজে বাংলাদেশের মূল শক্তি।
মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে বরাবরের মতোই আলোচনা তুঙ্গে। এর আগের সিরিজগুলোতে এই মাঠে স্পিনারদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা গেলেও এবার কোচদের দাবি অনুযায়ী উইকেটের মান কিছুটা উন্নত করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে বিকেলে অকালবৃষ্টির শঙ্কা থাকায় টস এবং কন্ডিশন ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তানি অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি তার নেতৃত্বে টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবেন। যদিও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স খুব একটা সুখকর ছিল না, তবে অধিনায়ক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস তার সঙ্গী হিসেবে থাকছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল। যদিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ফলাফলের পুনরাবৃত্তি করা কঠিন, তবে সিরিজ জিততে পারলে তা হবে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য ঈদের এক বড় উপহার।
সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক নয়; শেষ পাঁচটি সিরিজের মধ্যে চারটিতেই হারতে হয়েছে তাদের। এমনকি আফগানিস্তানের কাছেও দেশের মাটিতে দুটি সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। এই বিবর্ণ দশা কাটিয়ে পাকিস্তানের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ জয় করতে পারলে সেটি হবে ২০২৭ বিশ্বকাপের পথে এক আত্মবিশ্বাসী পদযাত্রা।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
























