রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা পায়নি, আলোচনায় তা চেয়েছে : ইরান

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যা পায়নি, আলোচনায় তা চেয়েছে : ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এবার ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে তেহরান। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাওয়ার জন্য নানা ‘অজুহাত’ খুঁজছে।


রোববার (১২ এপ্রিল) দেশটির প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এবং ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি এই তথ্য জানায়।


ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই বাগযুদ্ধ শুরু হলো। ইরানি সূত্রগুলো বলছে, ওয়াশিংটন আন্তরিকভাবে সমাধান খোঁজার বদলে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই আলোচনার নাটক সাজিয়েছিল।


ইরানি প্রতিনিধি দলের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রটি জানায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্যই মূলত আলোচনার টেবিলে বসেছিল। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত ও সামরিক অচলাবস্থার পর নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা ছাড়া আমেরিকার আর কোনো বড় উদ্দেশ্য ছিল না।


দাবিতে বলা হয়েছে, রণাঙ্গনে পরাজয় ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হওয়া সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তাদের ‘আকাশচুম্বী প্রত্যাশা’ কমাতে রাজি নয়। তারা যুদ্ধের ময়দানে যা অর্জন করতে পারেনি, আলোচনার টেবিলে বসে এখন সেই অন্যায্য দাবিগুলোই পূরণের জন্য ইরানকে চাপ দিচ্ছে।


প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, পরবর্তী ধাপের আলোচনার বিষয়ে ইরানের বর্তমানে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। ইরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিকভাবে কোনো সমাধান না খুঁজে বরং আলোচনার পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বাহানা তৈরি করছে।


অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এর আগে দাবি করেছিলেন ইরানের অনমনীয়তার কারণেই বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়, তারা তাদের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না। 


এর আগে টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতএ যায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। অস্থায়ী এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় বসে ছিল দুই পক্ষ। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয় এ বৈঠক। 


সম্পাদক : আবদুল মাতিন