বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

ছয় মাসে ৬৭টি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে: ভয়েস

ছয় মাসে ৬৭টি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে: ভয়েস

সারাদেশে গেল ছয় মাসে ৬৭টি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে অধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংস্থা 'ভয়েস'এর প্রতিবেদন উঠে আসে। বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পরিস্থিতির প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান।

আজ বুধবার  ঢাকায় ‘ভয়েস’-এর উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিকদের সভায় বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদনের প্রধান ফলাফল, বিশ্লেষণ এবং সুপারিশসমূহ নিয়ে  উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রতিবেদনটিতে সমসাময়িক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরণের বিভিন্ন ঘটনা নথিভুক্ত ও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, অধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। 

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলছে এমন বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ, অনলাইন মতপ্রকাশের অপরাধীকরণ, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, জনসম্মুখে নারীর প্রতি সহিংসতা, এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতা। তারা উল্লেখ করেন, এসব ঘটনা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করছে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল আইনসহ অন্যান্য আইন প্রণয়নের সময় গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের সুপারিশগুলো সবসময় চূড়ান্ত সংস্করণে প্রতিফলিত হয় না, যা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে সীমিত করতে পারে।

গণমাধ্যম ও জেন্ডার গবেষক এবং শিক্ষক আফরোজা সোমা, নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর বিষয়ে আরও গভীর অনুসন্ধান এবং অধিকতর স্বচ্ছতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কে নির্ধারণ করে, এবং সেই স্বাধীনতা খর্ব হলে কার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।”

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শারাবান তহুরা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার, ক্রমশ সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসরে অপতথ্যের ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।

ভয়েস-এর উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা চলমান গণমাধ্যম পর্যালোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে বলেন, “গত ছয় মাসে আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ৬৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছি। এ ধরনের ঘটনার স্বাভাবিকীকরণ প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হবে।”

প্রতিবেদনের কাজে সম্পৃক্ত ভয়েস এর প্রতিনিধি, বন্ধন দাস বলেন, “গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ধারাবাহিক ঘটনা বিশ্লেষণ করেছি এবং দেখেছি যে এ ঘটনাগুলির তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে, মব-সহিংসতা একটি ক্রমবর্ধমান ও উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি উদিসা ইসলাম, নাগরিক উদ্যোগের নাদিরা পারভিন, উন্নয়ণ ধারা ট্রাস্টের মো. আমিনুর রসুল, সেরাক বাংলাদেশের এস. এম. সৈকত, সাংগাতের প্রতিনিধি বিপাশা সাঈদ, অধিকারকর্মী মঞ্জু রানি প্রামাণিক, প্রমুখ।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন