শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

২৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস

২৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস

দেশের ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গতকাল বুধবারের তুলনায় আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া এলাকার সংখ্যা কিছু কমেছে। আবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও সামান্য বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে রাজধানীর তাপমাত্রাও।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এভাবে শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকতে পারে কয়েক দিন। অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ মাসের অন্তত মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শৈত্যপ্রবাহ চলতে থাকবে। এ সময় এর বিস্তৃতি কমবেশি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেছেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি আট জেলা, অর্থাৎ গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও বইছে শৈত্যপ্রবাহ।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে জেলার সংখ্যা ১৬। তাই সব মিলিয়ে আজ ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। এর মধ্যে নওগাঁর বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি ছিল এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।


এই শৈত্যপ্রবাহ আর কয় দিন চলবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহীনুল ইসলাম বলেন, আরও কয়েক দিন চলতে পারে। এতে নতুন নতুন জেলা যুক্ত হতে পারে আবার কিছু জেলা বাদ পড়তে পারে। তবে শৈত্যপ্রবাহ দ্রুত যাচ্ছে না। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তা চলতে পারে।


দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সূর্যের কোনো দেখা মেলেনি। ভোর থেকেই পুরো জেলা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল।


ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে জেলার স্বাভাবিক জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা।


তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আগামী কয়েক দিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ