শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

হেডফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

হেডফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কিংবা ট্যাব; দিনের বড় একটা সময় এখন কাটে হেডফোন বা ইয়ারফোন কানে গুঁজে। গান শোনা, সিনেমা দেখা, অনলাইন মিটিং, গেম- সবখানেই হেডফোন যেন ব্যক্তিগত জগতের দরজা খুলে দেয়। ভিড়ের মধ্যেও নিজের মতো থাকা যায়, শব্দের দখল নেওয়া যায়। কিন্তু এই আরামের নীরব সঙ্গীটাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে পারে শ্রবণশক্তির বড় শত্রু, যদি এখনই সচেতন না হই।


উচ্চ শব্দে দীর্ঘ সময়: সবচেয়ে বড় বিপদ


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৮৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দে দীর্ঘ সময় কানে দিলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই হেডফোনে গান শোনেন এর চেয়েও বেশি ভলিউমে। বিশেষ করে বাস, রিকশা বা ভিড়ের মধ্যে। সমস্যা হলো, কানের ভেতরের সূক্ষ্ম কোষগুলো একবার নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না। শুরুতে কানে শোঁ শোঁ শব্দ, হালকা ব্যথা বা ভারী লাগা, এসবই ভবিষ্যতের বড় সমস্যার ইঙ্গিত।


‘সবসময় কানে’ অভ্যাসটি কেন ক্ষতিকর


অনেকেই কাজের ফাঁকে, হাঁটার সময়, এমনকি ঘুমের মধ্যেও হেডফোন ব্যবহার করেন। এতে কান বিশ্রামের সুযোগ পায় না। দীর্ঘক্ষণ কানে চাপ থাকলে শুধু শ্রবণশক্তি নয়, কানের ভেতরের ত্বকেও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ইন-ইয়ার ইয়ারফোনে ঘাম ও ধুলো জমে ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে, যা থেকে হতে পারে কানে চুলকানি, ব্যথা বা ইনফেকশন।


শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি


অনলাইন ক্লাস, গেমিং আর ভিডিও কনটেন্টের কারণে শিশু-কিশোরদের হেডফোন ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে। কিন্তু তাদের কানের সংবেদনশীলতা বেশি হওয়ায় ক্ষতির ঝুঁকিও বেশি। অনেক সময় তারা বুঝতেই পারে না, কানে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাই অভিভাবকদের উচিত ভলিউম নিয়ন্ত্রণ করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের বেশি হেডফোন ব্যবহার না করতে দেওয়া।


রাস্তায় হেডফোন: জীবনঝুঁকির কারণও হতে পারে


হাঁটার সময় বা রাস্তায় চলাচলের সময় হেডফোন কানে থাকলে আশপাশের শব্দ শোনা যায় না। ফলে গাড়ির হর্ন, সিগন্যাল বা সতর্ক সংকেত অগ্রাহ্য হয়ে যায়। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় এটি মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যা অনেকেই অবহেলা করেন।


নিরাপদ ব্যবহারের সহজ কিছু অভ্যাস


বিশেষজ্ঞরা ‘৬০–৬০ নিয়ম’ মানার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ ভলিউম ৬০ শতাংশের বেশি নয়, টানা ৬০ মিনিটের বেশি নয়। মাঝেমধ্যে হেডফোন খুলে কানে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। নিয়মিত ইয়ারফোন পরিষ্কার রাখা, ঘুমের সময় ব্যবহার না করা এবং প্রয়োজনে নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করাও ভালো বিকল্প হতে পারে, যাতে কম ভলিউমেই পরিষ্কার শব্দ পাওয়া যায়।


আরাম নয়, সচেতনতাই সুরক্ষা


হেডফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। একে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। দরকার শুধু সচেতন ব্যবহার। আজ একটু সাবধান হলে ভবিষ্যতে শ্রবণশক্তির মতো অমূল্য সম্পদকে রক্ষা করা সম্ভব।


কারণ, শব্দ থামানো যায়; কিন্তু একবার নষ্ট হওয়া শ্রবণশক্তি আর ফেরানো যায় না।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ