মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হতে হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে তিনি বলেন, ইতিহাসের বড় বড় স্বৈরশাসকরা যেমন অহংকারের চূড়ায় পৌঁছে পতনের স্বাদ পেয়েছে, ট্রাম্পের পরিণতিও তেমন হবে। চলমান জনবিক্ষোভকে বিদেশি মদদপুষ্ট আখ্যা দিয়ে খামেনি স্পষ্ট জানান, কোনো ধ্বংসাত্মক শক্তির সামনে ইরান মাথা নত করবে না। খবর দ্য ডনের।
খামেনি দাবি করেন, বিক্ষোভকারীরা মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করতেই দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সে যদি দেশ চালাতে জানত, তবে নিজের দেশটাই আগে ঠিকভাবে চালাত।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প এর আগেই ইরান সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। তবে খামেনি তার সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ঐক্যবদ্ধ জাতি যেকোনো শত্রুকে পরাস্ত করার সক্ষমতা রাখে।
এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রীতিমতো অগ্নিগর্ভ রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, টানা ১২ ঘণ্টা ধরে ইরান কার্যত পুরো বিশ্ব থেকে অফলাইনে রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’র তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন বিক্ষোভকারী এবং চারজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্টারনেট বন্ধ করে এবং ধরপাকড় চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের এই চেষ্টা ইরানের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে আরও উসকে দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক যুদ্ধকে এক নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























