সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

উইজডেনের বর্ষসেরা টি–টুয়েন্টি দলে মোস্তাফিজ

উইজডেনের বর্ষসেরা টি–টুয়েন্টি দলে মোস্তাফিজ

জাতীয় দল ও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টুয়েন্টি লিগে গত বছর দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তারই স্বীকৃতি পেলেন এবার। স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতে সব ম্যাচের পারফরম্যান্স বিচার করে এই সংস্করণে ছেলেদের বর্ষসেরা একাদশ বেছে নিয়েছে ক্রিকেট–বিষয়ক ওয়েবসাইট উইজডেন। ওয়েবসাইটটির সম্পাদকীয় দলের বেছে নেওয়া বর্ষসেরা এই একাদশে আছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

২০২৬ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে গত বছরের শেষ দিকে এই সংস্করণে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। আর বছরজুড়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন টি–টুয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া—সব ধরনের স্বীকৃত টি–টুয়েন্টি ম্যাচের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে এই একাদশ গড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উইজডেন।

মোস্তাফিজের গত বছরের পারফরম্যান্স নিয়ে উইজডেনের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, অন্তত ১৫০ ওভার বল করেছেন—এমন বোলারদের মধ্যে ২০২৫ সালে তাঁর বোলিং গড় ছিল ১৮.০৩, যা অন্য সবার চেয়ে ভালো। এ বছরে কোনো পেসারই তাঁর মতো এতটা মিতব্যয়ী ছিলেন না। স্ট্রাইক রেটে শুধু ক্যারিবিয়ান পেস অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার তাঁর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। বছরজুড়েই রান আটকে রেখে নিয়মিত উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ।


স্বীকৃত টি–টুয়েন্টিতে গত বছর মোস্তাফিজ ৪৩ ইনিংসে ৫৯ উইকেট নেন। ওভারপ্রতি রান দেন ৬.৭৮। স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫.৯। ১১ রানে ৩ উইকেট ছিল তাঁর সেরা বোলিং। পুরো বছরে তিনি ১৫৬.৫ ওভার বোলিং করেন। অন্যদিকে জেসন হোল্ডার ২৫০.২ ওভার বল করে ৯৭ উইকেট নেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫.৪ হলেও বোলিং গড় ছিল ২১.৪২।

দুজন করে বিশেষজ্ঞ স্পিনার, পেসার এবং পেস অলরাউন্ডার দিয়ে এই বর্ষসেরা দল গঠন করা হয়েছে। স্পিন বিভাগে ভারতের বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারাইন। পেস আক্রমণে মোস্তাফিজের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের জ্যাকব ডাফি। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইংল্যান্ডের স্যাম কারেন ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার।

উইজডেনের বর্ষসেরা (২০২৫) টি–টুয়েন্টি একাদশে ওপেনিংয়ে আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা ও ইংল্যান্ডের ফিল সল্ট। সব ধরনের স্বীকৃত টি–টুয়েন্টি মিলিয়ে গত বছর অভিষেক শর্মা তিনটি সেঞ্চুরি করেন। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ২০২.০১। ৪০ ইনিংসে ৪১.০৭ গড়ে মোট ১৬০২ রান করার পাশাপাশি নেন ১০ উইকেট। উইজডেন লিখেছে, এক পঞ্জিকাবর্ষে প্রতি বলে দুই রান হারে ব্যাট করে হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া প্রথম ক্রিকেটার তিনি।


ফিল সল্ট ৫২ ইনিংসে ১৫৭৫ রান করেন ১৫৩.৩৫ স্ট্রাইক রেটে। ইংল্যান্ড জাতীয় দল ও আইপিএলে গত বছর তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৬। তিনি এই একাদশের উইকেটকিপার হিসেবেও আছেন।


দক্ষিণ আফ্রিকার দেভাল্ড ব্রেভিস, ডোনোভান ফেরেইরা এবং অস্ট্রেলিয়ার টিম ডেভিডও আছেন বর্ষসেরা এই দলে। মাঝের ওভারগুলোতে বাউন্ডারি মারার দক্ষতার জন্য ফেরেইরাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে উইজডেন। গত বছর তিনি প্রতি ৬.৬ বলে একটি করে ছক্কা এবং প্রতি ৩.৯ বলে একটি করে চার মারেন। ব্রেভিস আইপিএল, এসএটি২০ ও দ্য হান্ড্রেড—এই তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ১৮০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেন এবং তিন থেকে সাত নম্বর পজিশনে ১৭০-এর বেশি স্ট্রাইক রেট ধরে রাখেন।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ