সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের রায় প্রভাবিত করার অভিযোগ নাহিদের

বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের রায় প্রভাবিত করার অভিযোগ নাহিদের

বিএনপির ‘মবের’ মুখে নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ থাকা আগ্রহী প্রার্থীদের বিষয়ে আইনগতভাবে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নির্বাচনের জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার তা নেই দাবি করে তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসন নিরপেক্ষ আচরণ করছে না।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে এনসিপির তরফে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে বলে বিফ্রিংয়ে বলেন তিনি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলা মোটরে এনসিপি কার্যালয়ে বিফ্রিংয়ে আসেন এনসিপির আহ্বায়ক।


কিছু প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে নির্বাচন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।


নাহিদ বলেন, গত দুইদিন ধরে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, যে নির্বাচন কমিশন দ্ব্তৈ নাগরিকত্ব যাদের রয়েছে এবং (এর) দায়ে যারা অভিযুক্ত তাদের বিষয়ে আইনের দৃষ্টিতে কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। বরং তাদেরকে আইনের ফাকফোকর দিয়ে সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে কীভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া যায়- সেই চেষ্টা তারা করেছে। এই চেষ্টাটা খুবই স্পষ্ট তারা করেছে বিএনপির চাপে, বিএনপি এবং তার ছাত্র সংগঠন নির্বাচন কমিশনের সামনে যেই একটা মব করেছে যেই চাপ তৈরি করেছে এবং বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচন কমিশন রায় দেওয়ার আগেই তার সাথে কথা বলে সে রায়কে প্রভাবিত করেছে।“


তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাতে বিশেষত গত দুই তিন দিনে হয়ে যাওয়া যে ঘটনাসমূহ যেটা সামনে নির্বাচন এবং সমসাময়িক রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই বিষয়টা আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে উল্লেখ করেছি। যেহেতু প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্তর্বর্তী সরকার বারবারই বলে আসছে যে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ একটা নির্বাচন তারা দিতে চায় এবং সেই আস্থাটা তারা আমাদেরকে দিচ্ছে, দেওয়ার চেষ্টা করতেছে কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ একটা নির্বাচনের জন্য যে ধরনের পরিবেশ থাকা দরকার নির্বাচন কমিশন এবং মাঠ প্রশাসন যে নিরপেক্ষতা নিয়ে নিরপেক্ষ আচরণ করা প্রয়োজন সেই আচরণটা আমরা মাঠে দেখতেছি না। এই বিষয়গুলো আমরা ওনার কাছে বলেছি যে, নির্বাচন যদি এভাবে পক্ষপাত তুষ্ট হয় নির্বাচন কমিশন যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে সেটা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে এবং নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে।


তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন যদি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ না হয় তাহলে কিন্তু এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপর আসবে, ইউনূসের উপরে আসবে। সেই জায়গায় আমরা আমাদের উদ্বেগ ওনার কাছে প্রকাশ করেছি এবং আমরা আশা করব যে সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রতিকার করবে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছেও এই বিষয়গুলো বরাবর পর্যন্ত বলে আসছি।


দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে ইসির পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন,নির্বাচন কমিশন কিন্তু সংবিধানের ব্যাখ্যা দিতে পারে না। সংবিধানের ব্যাখ্যা আমরা সবসময় জানি শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্ট দিতে পারে। সংবিধানে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে দ্বৈত নাগরিকত্ব যারা থাকবে তাদের। তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এবং এই দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগ করা বলতে কী বোঝানো হবে এটাও সুপ্রিম কোর্টের ব্যাখ্যা আছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন একটা নতুন একটা ব্যাখ্যা গতকালকে (রোববার) দিল। এই ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশন আসলে দিতে পারে না। এবং এই ব্যাখ্যাটা এই কারণেই দেওয়া হয়েছে। যাতে বিএনপির এই প্রার্থী বা দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এই প্রার্থীগুলাকে যাতে নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়া হয়।


নির্বাচন কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন, আমরা খুব সুস্পষ্টভাবে প্রধান উপদেষ্টাকে আজকে বলেছি এই দ্বৈত নাগরিকত্ব বিএনপিতে অনেক রয়েছে জামায়াতেও রয়েছে। আরো অনেক দলে থাকতে পারে। এটা আসলে তারা কোন দলের এটা আমাদের কাছে বিষয় না। আমাদের কাছে বিষয়টা হচ্ছে আইনের প্রয়োগটা যাতে সুষ্ঠু হয়, সবার জন্য সমানভাবে হয় এবং সব দলের জন্যই যাতে এটা সমানভাবে প্রযোজ্য থাকে। একইভাবে যারা ঋণ খেলাপি তাদের এই বিষয়গুলো পরিশোধ করার আগে তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা না। কিন্তু একজন নির্বাচন কমিশনার বলতেছেন যে তিনি মন খারাপ থাকা সত্ত্বেও অনেক কষ্ট নিয়ে হলেও এই ঋণ খেলাপিতে তারা নির্বাচন কমিশনে নির্বাচন করতে সুযোগ দিচ্ছে। ফলে এটা তো খুবই স্পষ্ট যে একটা দলের চাপে পড়ে তারা নিজেদের অবস্থান থেকে আইনের অবস্থান থেকে নিয়ম থেকে সরে এসে একটা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে। যেটা আমাদের এই নির্বাচন কমিশনকে কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমরা এগুলো নিয়ে আদালতে যাব এবং আদালতেও নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে।


নিজেদের বিরুদ্ধে দেওয়া শোকজের জবাবের বিষয় তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমর ইলেকশন কমিশনের কাছে প্রশ্ন নিরপেক্ষতা নিয়ে কথা বলতেছি এবং একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে এই বিষয়গুলোকে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে সেই সময় আমাদের এই বিষয়গুলোতো তারা কোনো আমলে নিল না। বরং আমাদেরকেই তারা শোকজ দিল। অর্থাৎ আপনি এই দেশে আইনের কথা মানতে বলবেন। আপনার উপরেই আইনের ভুল প্রয়োগ করা হবে। তারেক রহমান যখন বাংলাদেশ দেশে এসেছেন। সারা ঢাকা শহর পোস্টারে ছেয়ে গেছে, ওনার নির্বাচনি এলাকা গুলশানে পোস্টার ভরে গেছে। অথচ আমাদের গণভোটের প্রচারে ছবি ব্যবহার করায় আমাদের শোকজ দেওয়া হল।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ