রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম এনটিআরসির ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি কখন, যা জানা গেল বাংলাবাজার পত্রিকা.কম প্রিয়জনদের খুশি রাখার সহজ উপায় বাংলাবাজার পত্রিকা.কম শরীরের রোগ প্রতিরোধে ও সুরক্ষায় ‘গোল্ডেন মিল্ক’ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু, সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই বাংলাবাজার পত্রিকা.কম নিরাপত্তা শঙ্কায় বাতিল হলো সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়নি: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাবাজার পত্রিকা.কম কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের ঘোষণা তারেক রহমানের বাংলাবাজার পত্রিকা.কম হাসিনার প্রকাশ্য বক্তব্য দেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাবাজার পত্রিকা.কম হেভিওয়েট রাজনীতির অবসান হবে: সারজিস আলম বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ‘কৃষি ছাড়া উত্তর দেব না’, ছাত্রলীগ নেতার ইস্যুতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের ঘোষণা তারেক রহমানের

কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের ঘোষণা তারেক রহমানের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে জনমানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতে প্রমাণ করেছে, একমাত্র বিএনপির পক্ষেই সম্ভব সেই বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটি হলো—দুর্নীতি। যেকোনো মূল্যে আগামী বিএনপি সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে— এই দুটি হচ্ছে আমাদের কমিটমেন্ট এই দেশের মানুষের কাছে। কারণ বিএনপি সরকার অতীতেও প্রমাণ করেছে ’৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত যেই সরকার ছিল, তারা দুর্নীতিতে দেশকে নিচের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। ২০০১ সালে যখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের রায়ে দেশের দায়িত্ব পান, তখন ধীরে ধীরে ধীরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে দেশকে বের করে নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, আজকে আমি আপনাদেরসহ এখানে হাজার-লক্ষ মানুষের সামনে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই—আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, সেসব পরিকল্পনার মধ্যে কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা দুর্নীতির মাধ্যমে সেগুলোকে বাধাগ্রস্ত করেন; তাদেরকে কোনো ছাড় আমরা দেব না ইনশাআল্লাহ। প্রিয় ভাই-বোনেরা, আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনকে যদি সত্যিকারভাবে মিনিংফুল পরিবর্তন করতে হয়, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হয়; তাহলে আমাদের সকলকে আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


দুর্নীতি মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে কোনো পরিকল্পনায় কাজে দেবে না বলে মনে করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


তিনি বলেন, যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি—সব করতে পারে। প্রিয় ভাই-বোনেরা, বিগত সময় যখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছেন, আপনারা দেখেছেন যেই হোক না কেন এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক—যারা কোনো অনৈতিক কাজে নিজেকে জড়িত করেছে; আমরা তাদেরকেও ছাড় দেইনি। আজ এই দেশের জনগণ, এই দেশের মানুষ যদি বিএনপির পাশে থাকে- ইনশাআল্লাহ আগামী দিনেও আমরা একইভাবে কঠোর হস্তে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে নিয়ন্ত্রণ করব; যাতে দেশের সাধারণ মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে করে নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।


দুই দশক বাদে চট্টগ্রামে জনসভায় বক্তৃতা করলেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।


এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচনি প্রচার যাত্রার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করলেন চট্টগ্রাম থেকে। গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় জনসভা করে নির্বাচনি যাত্রা করেন তারেক রহমান।


সকাল থেকে পলোগ্রাউন্ড মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে। সকাল ১০টার মধ্যে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়।


এ সমাবেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা ছিলেন। মঞ্চে প্রথম সারিতে আছেন—বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য উদয় কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাঈদ নোমান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী সারোয়ার নিজাম, চট্টগ্রাম—৮ আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ান, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সুকোমল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আসলাম চৌধুরী, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটির মেয়র শাহাদাত হোসেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এস এম ফজলুল হক, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, খাগড়াছড়ির প্রার্থী আব্দুল ওয়াদুদ ভুইঁয়া, কক্সবাজারের প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য ম্যামাসিং, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহবায়ক জেরি প্রো চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নারী বিষয়ক সম্পাদক বেগম নুরে আরা সাফা, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আহবায়ক ইদ্রিস মিয়া, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ, চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি দ্বীপন দেওয়ান তালুকদার।


মঞ্চে দ্বিতীয় সারিতে আছেন—চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রাম-১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘ইয়ুথ পলিসি টকে’ বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। সেখান থেকে তার গাড়ি বহর লালখান বাজার মোড় হয়ে জনতার ভিড় পেরিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছায়।

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ