শুরু থেকে বগুড়ার আসনের দিকেই নজর ছিল বেশি; সেখানে প্রচার চালাচ্ছিলেন অধিক সময় ধরে। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে নানা গুঞ্জনের মধ্যে অবশেষে ঢাকা-১৮ আসনের ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
রোববার রাতে ফেইসবুকে এ ঘোষণা দেন তিনি। কারণ হিসেবে ব্যয়বহুল নির্বাচনের কথা বলেন মান্না।
এ ঘোষণার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৮ আসন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, নির্বাচনে থাকছেন তিনি। শেষ মুহূর্তে ঢাকায় প্রচারণা করতে পারেন। তিনি দুই জায়গা থেকেই প্রার্থিতা করবেন।
এর তিন দিনের মাথায় নিজের ফেইসবুকে মান্না প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাহারের কথা লেখেন। এজন্য দুঃখপ্রকাশও করেন।
তিনি লেখেন, "এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ এবং বগুড়া-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঢাকা-১৮ একটি বিশাল নির্বাচনি এলাকা। এর অন্তর্গত সাতটি থানা এবং সাড়ে ছয় লক্ষের মত ভোটার এখানে। নির্বাচন এতই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
"এই প্রেক্ষিতে আমি ঢাকা-১৮ এর নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্তে হয়তো অনেকে মনে কষ্ট পাবেন। তাদের কাছে আমি দু:খ প্রকাশ করছি।"
ঢাকা-১৮ আসনে ভোটে থাকা একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, ‘আর্থিক কারণে মান্নার ঢাকায় ভোট না করার বিষয়টি ঠিক হতে পারে। কারণ, বিএনপির যে অংশটি তার সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা এখন তার পাশে নেই।’
বিএনপি জোটের দীর্ঘদিনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মান্না ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ এবং ঢাকা-১৮ আসনে প্রার্থী হন। তাকে বগুড়া ২ আসনে জোটের প্রার্থী করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। তবে শেষ মুহূর্তে সমর্থন দেয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, "মাহমুদুর রহমান মান্নার আসনে জামায়াত জিতে আসার সম্ভাবনা ছিল। তাই বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।"
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সাবেক জিএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি মান্না এক সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের পদ থেকে বাদ পড়লে তিনি ‘নাগরিক ঐক্য’ গঠন করে আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে নির্বাচনি জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ‘নাগরিক ঐক্য’ রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।
সূত্র: বিডি নিউজ
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















