বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম

ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ক্যাম্পাস থমথমে

ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ক্যাম্পাস থমথমে

গভীর রাতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস। লতিফ হলের ভেতরে ঢুকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন।


ঘটনার পর ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। দুই সংগঠনের নেতারাই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।



আহতদের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ছাত্রশিবিরের একদল ‘সন্ত্রাসী’ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লতিফ হলের ভেতরে ঢুকে ছাত্রদল নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে।


তাদের অভিযোগ, হামলার সময় ছাত্রদলের এক কর্মীকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছর ধরে ছাত্রদলের রক্ত ঝরছে, এখন আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু গণমাধ্যম এই ঘটনাকে ‘সাধারণ শিক্ষার্থী বনাম ছাত্রদল’ হিসেবে প্রচার করে প্রকৃত সত্য আড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি, রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ওপর রামদা, রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল।


সাদিক কায়েম এই ঘটনাকে ‘ছাত্রলীগীয় কায়দায় হামলা ও দখলদারিত্ব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রশাসনের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। শিবিরের পক্ষ থেকে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, অবিলম্বে তাদের ‘দলীয় ক্যাডার’ বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে; অন্যথায় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বিঘ্নিত হওয়ার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।



রাতেই আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান সাদিক কায়েম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম (সিবগাতুল্লাহ)।


এদিকে সংঘর্ষের পর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে লতিফ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন