বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

চাল-ডাল-তেল-সবজির দামে চাপ, দিশেহারা মানুষ

চাল-ডাল-তেল-সবজির দামে চাপ, দিশেহারা মানুষ

রাজধানীর কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতের ভরা মৌসুমে সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দামে তার কোনো প্রভাব নেই। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ—সব মিলিয়ে বাজারে গেলেই হিসাবের খাতা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ ক্রেতাদের।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামেই এখন বাড়তি দাম। তারা যে দামে পাইকারী কেনে সেই হিসাবেই খুচরা বিক্রি করতে হচ্ছে। পরিবহন ও শ্রমিক খরচ বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারে আগের দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে পাইকারদের সিন্ডিকেট ও আমাদানিকারকদের অতি মুনাফালোভী চিন্তাভাবনা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। 


মুদি দোকানে নিত্যপণ্যের চড়া দাম

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন মুদি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চালের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিকন চাল ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা। ছোট দানার মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং মুগডাল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা, আর খোলা সয়াবিন তেল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। 


ক্রেতারা বলছেন, এই দাম নির্ধারিত আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ। মাসের শুরুতেই বড় অংকের টাকা বাজারে চলে যাচ্ছে। 

শীতের সবজি, তবু দামে স্বস্তি নেই

শীতকাল মানেই সবজির প্রাচুর্য—এটাই ছিল সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবে বাজারে সবজির দাম এখনও চড়া। টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। গাজর, শিম ও বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। মানভেদে শিম ৬০ থেকে ১০০ টাকা। শালগম ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।


এক আঁটি পালংশাক কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ টাকা। লালশাক ও মুলাশাক ১০ থেকে ১৫ টাকা আঁটি। বেগুনের কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস। সবজির দাম বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

নির্ধারিত আয়ের মানুষের বাড়তি ভোগান্তি

যাত্রাবাড়ী বাজারে আসা আবুল কাশেম বলেন, চাল-ডালের দাম কমছে না, ভোজ্যতেল অনেক দিন ধরেই চড়া। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে গেলে খুব বেশি কিছু কেনা যায় না। বেতন বাড়েনি, কিন্তু বাজার খরচ নিয়মিতই বাড়ছে—এটাই আমাদের মতো মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা।


মাছ-মাংসেও আগুন

মাছের বাজারেও স্বস্তির চিত্র নেই। মাঝারি সাইজের রুই মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মৃগেল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। শিং মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


মাংসের বাজারে গরুর মাংস কেজি ৭৮০ টাকা, খাসির মাংস এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। তবে তুলনামূলকভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।


সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ