মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম নেতানিয়াহু ‘নিহতের’ খবর, যা জানাল ইসরাইলি মিডিয়া বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ঈদে তিন দিনব্যাপী উৎসব ঘোষণা এনসিপির বাংলাবাজার পত্রিকা.কম টিএসসিতে দুই নারীকে লাঞ্ছিত: ঢাবির তিন শিক্ষার্থী বহিষ্কার বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে না বিরোধী দল: শিশির মনির বাংলাবাজার পত্রিকা.কম পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে পদ হারালেন জামায়াত আমিরের উপদেষ্টা বাংলাবাজার পত্রিকা.কম নিজের উপদেষ্টাকে মন্ত্রী বানাতে জামায়াত আমিরের অনুরোধ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম প্রসিকিউটদের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না: চিফ প্রসিকিউটর বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ঈদে পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে সংবাদপত্র বাংলাবাজার পত্রিকা.কম জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না: প্রধানমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষক-কর্মচারী-শিক্ষার্থীদের অনুদান দেবে সরকার

প্রসিকিউটদের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না: চিফ প্রসিকিউটর

প্রসিকিউটদের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না: চিফ প্রসিকিউটর

সদ্য সাবেক এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে জামিন করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রসিকিউটরদের দায়িত্ব পালনে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।


মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রসিকিউশন টিমের সদস্যদের তিনি শুরু থেকেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা মেনে নেওয়া হবে না।


ভবিষ্যতে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।


পদত্যাগী প্রসিকিউটর সাইমুমম রেজা তালুকদারের ‘ঘুষের বিনিময়ে’ এক আসামিকে খালাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে তা খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি নিজেও সরাসরি অংশ নেবেন বলেও জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।


জুলাই আন্দোলনের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমের এক আইনজীবীর সঙ্গে এ বিষয়ে রেজা তালুকদারের কথপোকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়। যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশের প্রথম সারির কিছু পত্রিকা । বিষয়টি নিয়ে প্রধান কৌঁসুলি এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।


এই কথপোকথনে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আজকে সকালবেলা যখন আমি এই নিউজটা আমার বাসায় দেখলাম, তাৎক্ষণিকভাবে আমি আমার সব প্রসিকিউটরদেরকে বললাম যে আপনারা সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিত থাকবেন। এই বিষয়টা কী, কেন হল, এই বিষয়গুলো আমাদের বিস্তারিত আমি জানার চেষ্টা করেছি।


“যে মামলার বিষয়বস্তুটা নিয়ে এই নিউজটা এসেছে, পার্টিকুলারলি সেই মামলাটা আমি আজকে তাৎক্ষণিকভাবে যার কাছে ছিল, আমি সেটা কল করেছিলাম। করে আমি কেসটা প্রাথমিকভাবে এটার সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছি। এবং মূলত আমাদের আজকের এই সকালবেলার বৈঠকটা এই কারণেই ছিল। আর অনেকগুলো বিষয় আছে যে আমাদের অভ্যন্তরীণ অনেক কিছু থাকবে, এগুলো তো আমরা পাবলিকে বলার কোনো সুযোগ নেই, বলতেও পারব না।”


এই ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের পুরো বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয় কী না প্রশ্নে তিনি বলেন, “শতভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়, আমি আপনার সাথে একমত। যে এরকম যদি কোনো বিষয় হয়, তাহলে তো অবশ্যই আমাদের ট্রাইব্যুনাল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমাদের ইমেজ সংকট হয়। এগুলি এটা তো সংগত কারণেই যে এরকম প্রশ্ন উঠবে কেন?”


এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি আপনাদেরকে একটু মনে করিয়ে দেই, আমি আমার দ্বিতীয় (দায়িত্ব নেওয়ার পর) সাক্ষাৎকারে আপনাদের কাছে বলেছিলাম, আমার পিরিয়ডে, আমার কর্মকালে কোনো প্রসিকিউটর যদি তার বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, সাবস্টেনটিভ কোনো অভিযোগ যদি আমি পাই, আমি তাকে স্পেয়ার করব না।”


ফাঁস হওয়া অডিওর তদন্ত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “যে অডিওটা এসছে, যদি ফরমাল অভিযোগ আমার কাছে নাও আসে, আমি ব্যক্তিগতভাবে মানে আমার প্রসিকিউশনের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে একটা অভ্যন্তরীণ তদন্ত আমরা করব। শুধু তাই না, আমি আরেকটা কথা বলি। এই পার্টিকুলার বিষয়ে তো তদন্ত করবই। আমি ৫ই অগাস্টের পরে আমাদের এই ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পরে, সমস্ত বিষয় আমি আমার অভ্যন্তরীণ একটা কমিটি গঠন করে সবটাই তদন্ত করে দেখব।”


কোনো অনিয়ম পেলে সেটা তিনি তার কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করবেন বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।


এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, ইতোমধ্যে ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলার রায় হয়ে গেছে এবং আশুলিয়ার মামলারর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি রায় ঘোষণার পর চিৎকার করে বলেন, ‘আমি টাকা দিতে পারিনি বলে অন্যজনকে রাজসাক্ষী করেছে এবং আমার কাছে টাকা চেয়েছিল, আমি দিতে পারিনি বলে আজকে আমার এই পরিণতি হয়েছে।


এই অভিযোগ আমলে নেওয়ার সুযোগ আছে কী না জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমার যোগদানের আগের যদি কোনো ঘটনা থাকে, এটা অনলাইন মাধ্যম হোক, ফরমাল চার্জ হোক, আমি সবগুলোর বিষয়ে আমি অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে আমি দেখব। যতটুকুন আমার ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতা অনুযায়ী যেখানে সুপারিশ করার আমি অন্তত সুপারিশ করব, যদি আমি তার সত্যতা বিন্দুমাত্র পাই।”


আগের প্রধান কৌঁসুলির সময়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “ওনার ব্যর্থতা সফলতাটা তো আমি মূল্যায়ন করতে পারব না। এটা আপনারা সবাই, দেশবাসী মূল্যায়ন করবেন। তবে প্রশ্নটা হচ্ছে যে পার্টিকুলার যে এলিগেশনটা আজকে উঠল, যেটা আমাদের কাছে আমাদের নোটিশে আসল, এই বিষয়ে আমাদের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর সাহেবের কী নলেজ আছে, উনি কতটুকুন জানেন, কী ব্যবস্থা নিয়েছেন সংগত কারণেই তো আমরা তার সাহায্য আমরা চাইব।”


এই ধরনের অপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনে হবে নাকি প্রচলিত আইনে হবে কী না জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শিগগিরই তারা বিষয়টি নিয় বৈঠকে বসবেন।


“আমরা প্রসিকিউটর টিম বসছি, আমরা একটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। আপনারা আসার আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এই বিষয়ে আমাদের প্রয়োজনীয় করণীয় কী হওয়া উচিত। কারণ আমি একটা বার্তা দিতে চাই যে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আমি অতীতের সমস্ত কর্মকাণ্ড আমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব।


“আর ভবিষ্যৎ আমাদের এখানে প্রসিকিউশনে যারা কাজ করতে চাইবেন, তাদের কাছে পরিষ্কার বার্তা— যে ভবিষ্যতে আমি যদি একটা সুতা পরিমাণ অভিযোগ যদি কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে পাই, তাহলে আপনি ধরে নেবেন পরের দিন তিনি আর আমার এখানে নাই।”

সম্পাদক : আবদুল মাতিন