দেশে ই-বর্জ্যের অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন ও অনুপযুক্ত ব্যবস্থাপনা মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। এ সংকট মোকাবিলায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করেন বক্তারা।
আজ ঢাকায় “বাংলাদেশে ই-বর্জ্য সংকট ২০২১-২০২৫: মানবজীবন ও পরিবেশের উপর প্রভাব” শীর্ষক একটি অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন।
অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহায়তায় অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস-এর উদ্যোগে ভয়েস সিভিক সেন্টারে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারি সংস্থাগুলোর আরও শক্তিশালী অঙ্গীকার, নিয়মিত তদারকি এবং বিদ্যমান বাস্তবায়ন-ঘাটতি দূরীকরণে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভয়েস-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলেও গত অর্থবছরে কোনো প্রতিষ্ঠানই ব্যবহারের অযোগ্য পণ্য সংগ্রহ করেনি। এ তথ্যগুলো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এর বাস্তবায়নে বিদ্যমান গুরুতর ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে এর বাস্তবায়ন এখনও দুর্বল এবং অপর্যাপ্ত।”
ভয়েস-এর বন্ধন দাস গবেষণার মূল ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “ই-বর্জ্যে থাকা সীসা, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো বিষাক্ত উপাদান মানুষের রক্তপ্রবাহ দূষিত করতে পারে, শিশুদের মেধা ও জ্ঞানীয় বিকাশ ব্যাহত করতে পারে এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
সভায় ভয়েস-এর উপপরিচালক (প্রোগ্রামস) মুশারাত মাহেরা ,গ্রিন ভয়েস, বাপা, সংবাদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম





















