বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

টয়লেটে মিলল ৪২ বোত মদ, এসআইয়ের হাতে যেতেই উধাও ১৭!

টয়লেটে মিলল ৪২ বোত মদ, এসআইয়ের হাতে যেতেই উধাও ১৭!

গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের ৪২ বোতল মদ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয় জনতা। এদিকে ৪২ বোতল মদ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুলিশ বলছে মাত্র ২৫ বোতল। উদ্ধার করা মদের বোতলের সংখ্যা নিয়ে জনতা ও পুলিশের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, টয়লেটের গর্ত থেকে মদ উদ্ধারের এবং পুলিশের কাছে হস্তান্তরের একটি লাইভ ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছে স্থানীয়রা। 


বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা (গোড়ান পাড়া) গ্রামের পোস্ট মাস্টার জালাল উদ্দীনের বসতবাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে এসব মদের বোতল উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী দুলাল (২৫) ও রাজীব (৩২) দৌড়ে পালিয়ে যায়।



মাদক ব্যবসায়ী দুলাল ও রাজীব শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বারতোপা (গোড়ান পাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। তারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন।


গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে নজরদারিতে রেখেছিলাম। বুধবার দুপুরে সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারি মাদক ব্যবসায়ীরা মদের একটি বড় চালান নামাচ্ছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় দূর থেকে আমাদেরকে দেখে কয়েক বোতল মদ নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে ৪২ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। শ্রীপুর থানাধীন চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমানকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তার কাছে কাছে আমরা বিদেশি ব্র্যান্ডের ৪২ বোতল মদ বুঝিয়ে দেই। টয়লেটের গর্ত থেকে মদ উদ্ধারের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের একটি লাইভ ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছে স্থানীয়রা।


তিনি আরও বলেন, পুলিশ ৪২ বোতল মদ পাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও এসআই মিজানুর রহমানের সামনেই ৩২ বোতল মদসহ তার ছবি উঠানো হয়েছে। বাকি ১০ বোতল একটি প্লাস্টিকের বস্তায় রয়েছে। কেন তিনি বাকি ১৭ বোতল মদের কথা অস্বীকার করছেন তা তিনি বলতে পারেননি।


শ্রীপুর থানাধীন চকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বিদেশি ব্র্যান্ডের মদ উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করলেও ৪২ বোতল মদের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, স্থানীয় জনতা আমাকে মাত্র ২৫ বোতল মদ হস্তান্তর করেছে।


বাকি ১৭ বোতল মদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পাননি বলে জানান।


কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মিরাজুল ইসলাম বলেন, মদ উদ্ধারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে বোতলের সংখ্যা কম-বেশি হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদের বলেন, বারোতোপা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্ত থেকে বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের বোতল উদ্ধারের বিষয়টি আমি শুনেছি। উদ্ধার করা মদের বোতলগুলো পুলিশ এখনও থানায় হস্তান্তর করেনি। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তবে মদের বোতল কম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মদের বোতল কম-বেশি হওয়ার বিষয়ে যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন