সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬

৬ শর্ত মানলে যুদ্ধ বন্ধ করবে ইরান

৬ শর্ত মানলে যুদ্ধ বন্ধ করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের জন্য ছয় দফা প্রধান শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি সম্ভব নয়। 


রোববার (২২ মার্চ) মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, ইরান আগে থেকেই পরিকল্পিত একটি বহুমুখী প্রতিরক্ষা কৌশল বাস্তবায়ন করছে, যা কয়েক মাস আগে থেকেই তৈরি ছিল। বর্তমানে ‘উচ্চমাত্রার কৌশলগত ধৈর্য’ নিয়ে এই পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে এবং তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।


লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান প্রতিরক্ষা এবং রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার পর এখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করেছে ইরান। 


তিনি আরও বলেন, আগ্রাসনকারীদের শাস্তি দেওয়ার নীতি ইরান চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একটি ‘ঐতিহাসিক শিক্ষা’ দেওয়া যায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিগুলোর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া সম্ভব হয়। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব পাঠালেও ইরান তাদের পূর্বশর্ত থেকে সরবে না।


ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ছয়টি প্রধান শর্তের মধ্যে প্রথমটি হলো ভবিষ্যতে যেন পুনরায় কোনো যুদ্ধ না বাধে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা প্রদান। দ্বিতীয় শর্তে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। তৃতীয়ত, যুদ্ধের ফলে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। 


চতুর্থ শর্ত হিসেবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক তৎপরতা বন্ধের কথা বলা হয়েছে। পঞ্চম শর্তে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি নতুন আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ ও ষষ্ঠ শর্তে ইরানবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হিসেবে বিবেচিত নির্দিষ্ট কিছু গণমাধ্যম ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা এবং তাদের ইরানের হাতে প্রত্যর্পণের দাবি জানানো হয়েছে।


ইরান সরকার মনে করছে, এই শর্তগুলো একটি নতুন আইনি ও কৌশলগত কাঠামোর অংশ, যা দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। তেহরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। 


বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের মতো শর্তগুলো ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের জন্য মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বেলারুশের প্রেসিডেন্টের মতো কিছু মিত্র দেশ এই যুদ্ধে ইরানের বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, তেহরানের এই ছয় দফা শর্ত মূলত যুদ্ধের ময়দানে তাদের শক্ত অবস্থানেরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: মেহের নিউজ

সম্পাদক : আবদুল মাতিন