বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী; সঙ্গে ছিলেন মেয়ে জাইমা রহমান।


রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী অধ্যাপক রেবেকা সুলতানা।


এদিন জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাধীনতা দিবসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ দেখার পর বঙ্গভবনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।


তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, “তারেক রহমান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।”


বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এটি প্রথম সাক্ষাৎ। এর আগে দুজনের সবশেষ দেখা হয় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সেদিন সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান।


মো. আবদুল হামিদের উত্তরসূরি সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি, যিনি চুপ্পু নামেই বেশি পরিচিত।


১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার দল আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করে সে সময় ক্ষমতাদখলকারীরা। সাহাবুদ্দিনকেও তখন কারাবরণ করতে হয়।


২০০১ সালের বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার অভিযোগ তদন্তে যে কমিশন হয়েছিল, সাহাবুদ্দিন ছিলেন তার প্রধান।


জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক এই মহাসচিব বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত করা সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।


৫ অগাস্টের মধ্য দিয়ে হাসিনা আমলের প্রায় সবার বিদায় ঘটলেও বঙ্গভবনে থেকে যান মো. সাহাবুদ্দিন।


তাকেই সংসদ বিলুপ্ত করার আদেশ দিতে হয়েছে; মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে শপথ পড়াতে হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে অধ্যাদেশে পরিণত করতে তাকেই সই দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারতে হয়েছে।


অভ্যুত্থানের পক্ষের কয়েকটি সংগঠন গত অক্টোবরে সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে তুমুল আন্দোলনও শুরু করেছিল। কিন্তু ‘সাংবিধানিক সংকট’ এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার তাকে আর সরানোর পথে যায়নি। বিএনপি সরকারের মনোভাবও একই মনে হচ্ছে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন