শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

গণভোটের ইস্যুতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি

গণভোটের ইস্যুতে ১১ দলের নতুন কর্মসূচি

জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে পরপর তিন শনিবার ‘গণমিছিল’ কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট ‘১১ দলীয় ঐক্য’।


এর মধ্যে আগামী শনিবার ‘গণমিছিল’ হবে ঢাকায়; একই কর্মসূচি বিভাগীয় শহরে হবে ২৫ এপ্রিল। এরপর ২ মে সব জেলায় এ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দল।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।


ঢাকার মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, জ্বালানি ও সার সংকটের নিরসন, হাম পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদ, দখলদারি, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ব্যাংক খাত ও সামগ্রিক দুর্ভোগ থেকে জনগণকে রক্ষার দাবিতে এসব কর্মসূচি পালিত হবে।’’


গোলাম পরওয়ার বলেন, “১৮ থেকে দোসরা মে অবধি প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সেমিনার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধানের অপব্যাখ্যা নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা হবে।”


সংবাদ সম্মেলনে ‘১১ দলীয় ঐক্য’র সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিনসহ অনেকে ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনের আগে এদিন জোটের শীর্ষ নেতারা আল ফালাহ মিলনায়তনে বৈঠক করেন। জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অণ্যদের মধ্যে ছিলেন এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।


এ বৈঠকেই নতুন কর্মসূচি ঠিক করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান গোলাম পরওয়ার।


তিনি বলেন, ‘‘২ মের পর থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে ও বড় শহরে অন্তত ১২টি সমাবেশ হবে। শীর্ষনেতারা আলোচনা করে সমাবেশের দিনক্ষণ ঠিক করবেন।’’


১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে অনুষ্ঠেয় এসব কর্মসূচিতে শীর্ষনেতারা অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।






গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘বিভাগীয় শহরের সমাবেশের পর রাজধানীতে ‘জাতীয় মহাসমাবেশ’ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এরপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন শীর্ষ নেতারা।’’


জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে রাজপথে সরব রয়েছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াত জোট। এর মধ্যে দুই দফা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।


জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা ঠিক করে দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। আর সেসব সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের বিষয়ে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন হয় গণভোট।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা। সংসদের মতই সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও তা হয়নি।


জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী দলের সদস্যরা সেদিন দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।


এর মধ্যে ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধি অনুসারে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপনের নোটিস দেন।


মুলতবি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘প্রতিকার না পাওয়ার’ অভিযোগে ১ এপ্রিল সংসদ থেকে ‘ওয়াকআউট’ করে বিরোধী দল।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন