অপহরণের নাটক সাজিয়ে ধরা পরার পর থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছেন পুলিশের পাহারায় আছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়া। কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। কিন্তু, নিজেকে ‘অসুস্থ’ দাবি করে ‘চোখ বন্ধ করে’ হাসপাতালের বিছানায় পড়ে থাকায় আদালতে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না তাকে।
এ অবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বলছে, পুরোটাই জিসানের নাটক। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জিসান পুরোপুরি সুস্থ।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে করা এড়াতে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন জিসান। পরে পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে ধরলে অসুস্থ হওয়ার ভান ধরেন তিনি। এ অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এই শিবির নেতাকে। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই নারীর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শুরুতে হাসপাতালে জিসান পুলিশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছিলেন। কিন্তু যখনই শুনেছেন, তাকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তখন থেকে চোখ খুলছেন না তিনি।
এদিকে ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চার সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, মেডিকেল বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে। বাকি তিনজন চিকিৎসক হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগ, নিউরো মেডিসিন বিভাগ ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের।
এই কর্মকর্তা জানান, আগামীকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা জিসান মিয়ার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাদের মতামত জানাবেন। তিনি সুস্থ হয়েও অসুস্থতার অভিনয় করলে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর অসুস্থ হলে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত করা সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম






















