চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে বসতঘরে ঢুকে এক গৃহবধূ ও তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় পিয়াস বড়ুয়া নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার পারৈকোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেইনামতি গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, স্থানীয় সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। প্রিয়ন্তী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক তেজপ্রিয় বড়ুয়া নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামীর চাচাতো ভাই।
ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, নেপথ্যে কী?
বেদে পল্লীতে এসি-সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীর রাজকীয় জীবনযাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে সুজন বড়ুয়ার পরিবারের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই তেজপ্রিয় বড়ুয়ার অর্থ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ও কোন্দল চলছিল। এর জের ধরে শনিবার রাতে সুজন বড়ুয়ার অনুপস্থিতিতে তার বসতঘরে প্রবেশ করেন তেজপ্রিয়। এরপর তিনি ধারালো ছুরি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান। ঘর থেকে আসা চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই এনি বড়ুয়া ও প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশু পিয়াস বড়ুয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়া বলেন, ব্যবসায়িক কাজে আমি শহরে ছিলাম। রাত সাড়ে ৯টার দিকেও স্ত্রীর সঙ্গে আমার স্বাভাবিক কথা হয়েছে। রাত ১১টার দিকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমি দ্রুত বাড়িতে আসি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আমার স্ত্রীর চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে এলে হামলাকারী তেজপ্রিয় পালিয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় আমার স্ত্রী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে জানিয়ে গেছে, তেজপ্রিয় বড়ুয়াই তাদের ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা করেছে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে মূল অভিযুক্ত তেজপ্রিয় বড়ুয়া পলাতক থাকলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার ভাইকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষ প্রতিনিধি | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম



















