প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ। আর ১২ থেকে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। তবে নতুন বেতনের পুরো সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। চার ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন স্কেল গত জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বর্ধিত মূল বেতন ও ভাতার সুবিধা নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।
নতুন পে-স্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। এ স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে নতুন বেতন স্কেল চার ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ যুক্ত হবে। এতে বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।
সবশেষে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, দশম থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপেই তুলনামূলক বেশি বেতন যুক্ত হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে বাকি ২৫ শতাংশ যুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রেও ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।
২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে তার প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা।
তবে বর্ধিত ২২ হাজার টাকা একবারে যোগ হবে না। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের আওতায় থাকায় তা তিন ধাপে যুক্ত হবে।
২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ হাজার ৮০০ টাকা বর্তমান মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ বা আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হবে।
তিন ধাপ শেষে ওই কর্মকর্তার মূল বেতন দাঁড়াবে ৪৪ হাজার টাকা। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে ৪৪ হাজার টাকা মূল বেতনের ভিত্তিতে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা নির্ধারিত হবে।
তবে বাস্তবে একজন সরকারি চাকরিজীবীর বেতন শুধু নতুন পে-স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়। ফলে চাকরির মেয়াদ ও প্রাপ্ত ইনক্রিমেন্ট অনুযায়ী একজন চাকরিজীবীর প্রকৃত মূল বেতন প্রারম্ভিক বেতনের চেয়ে বেশি হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম



















