শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমীর

৮ দফা এক দফায় পরিণত হতে পারে: জামায়াত আমীর

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের আট দফা, নয় দফা, দশ দফায় পরিণত হতে পারে। আবার জাতির প্রয়োজনে যেকোনো সময় এটি এক দফায় পরিণত হতে পারে।


আজ শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রংপুরমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।


সমাবেশে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের আট দফা এক দফায় পরিণত হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হবে। সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আগে সরকার যেন সাম্প্রতিক অতীত থেকে শিক্ষা নেয়। সেই শিক্ষা নিয়ে সরকার যেন জনগণের দাবি মেনে নেয়। দাবি মানতে ব্যর্থ হলে কোনো চোখ রাঙানিতে কাজ হবে না। বিরোধী দল কোনো কিছুতেই পরোয়া করবে না।


বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, চট্টগ্রামমুখী লংমার্চ সফল হওয়ায় অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। এর কিছু লক্ষণ গত দুই দিন ধরে রাজধানীতে দেখা যাচ্ছে। তারা যেন হতাশ হয়ে মাথা গরম না করে জনতার দাবি মেনে নেয়।


বিরোধী দল দলীয় কোনো দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেনি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ''আমরা ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। আজকে ১৮ কোটি মানুষ ১১ দলের সঙ্গে আছে। সেই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ।''


সমাবেশে জামায়াতের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে দেশব্যাপী জোয়ার তৈরি হয়েছে। তাই সরকার সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন কথা বলছে। বিরোধী দলের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হবে বলে জানান তিনি।


স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন ও লড়াই চলবে।


জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম ও দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম।


আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) প্রমুখ।


চট্টগ্রামের ছয় দাবি, রংপুরে আরও দুই


৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রেখেছিল ১১ দল। দাবিগুলো ছিল গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি তেল-গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ।


রংপুরের কর্মসূচিতে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির বিষয়গুলোর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের একটি আঞ্চলিক ইস্যুকেও সামনে এনেছে জোট। জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের মানুষের দাবিকে বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।


সামনে আরও দুই লংমার্চ


১১–দলীয় ঐক্যের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা এবং ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ হবে। অর্থাৎ চট্টগ্রাম, রংপুর, খুলনা ও সিলেট—দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দিকে ধারাবাহিক লংমার্চের কর্মসূচি নিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য।


১১–দলীয় ঐক্যের সূত্রগুলো বলছে, লংমার্চ ও সমাবেশ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক দাবিগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি জুলাই সনদ মেনে সংবিধান সংস্কারে সরকারকে চাপেও রাখার বিষয়টিও আছে।


লংমার্চ কর্মসূচি শেষ করে ঢাকায় সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১–দলীয় ঐক্য। তবে জোটের সূত্র বলছে, ঘোষিত চারটি লংমার্চ কর্মসূচি শেষে আরও কিছু বিভাগীয় শহরে লংমার্চ হতে পারে

সম্পাদক : আবদুল মাতিন