শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সংস্কার কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে সংলাপ

সংস্কার কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণ নিয়ে সংলাপ

গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের কার্যকর অংশগ্রহণ জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় ‘আন্তঃপ্রজন্মীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।


 শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।


‘Joining Youth in Effective Engagement in Reform Agendas in Bangladesh (JoYEE)’ প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। তরুণদের অগ্রাধিকার, উদ্বেগ ও সুপারিশ তুলে ধরার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।


সংলাপে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে তাদের অংশগ্রহণের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ এখনও সীমিত। তরুণ নারী অধিকারকর্মীদের অনলাইন ও বাস্তব জীবনে হয়রানি, হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।


ভয়েসের উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরার সঞ্চালনায় সংলাপ শুরু হয়। পরে ভয়েসের প্রতিনিধি তাসফিয়া তাসনিম নাবিলা ও তাজমিম হক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।


প্যানেল আলোচনায় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে মতবিরোধ দেখা গেছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন কম বলে তিনি মন্তব্য করেন।


আদিবাসী অধিকারকর্মী হেমা চাকমা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। জাতি, দল ও মত নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের অধিকার ও অংশগ্রহণের বিষয়েও আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।


শিক্ষক ও অধিকারকর্মী ওলিউর রহমান সান প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আগেই অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করছে। দক্ষতার ঘাটতির কারণে অনেক তরুণ বিদেশে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, আন্দোলনের ক্ষেত্রে ভাষার গুরুত্ব অনেক। আন্দোলনের সময় তৈরি হওয়া পরিবর্তনের ভাষা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


সমাপনী বক্তব্যে দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার এস এম সাইফ কাদের রুবাব বলেন, নাগরিক শিক্ষা অপরিহার্য। ভবিষ্যতের সংস্কার বাস্তবায়নে নাগরিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া প্রয়োজন।


সংলাপে রাজনৈতিক কর্মী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, অধিকারকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের তরুণ অংশীজন অংশ নেন। বক্তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশগ্রহণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা এবং তরুণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।


একই সঙ্গে তরুণদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের ধারাবাহিক সংলাপের সুযোগ তৈরি, সংস্কার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তারা।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন