মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় বলিুপ্ত হতে চলছে বাঁশ শিল্প

কুষ্টিয়ায় বলিুপ্ত হতে চলছে বাঁশ শিল্প

যতই দিন যাচ্ছে প্লাস্টিকের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বাজার দখল করে নেয়ায় আজ বাঁশ শিল্প বিলিন হতে চলেছে। গ্রাম পর্যায়ে বাঁশের চাষ আর হচ্ছেনা। যাও কিছু বাঁশঝাড় দেখা মেলে, তাও দিন দিন কেটে ফেলে বাড়ি-ঘর নির্মান ও অন্যান্য ফসল ও তামাক চাষ করা হচ্ছে। 

 অপ্রতুলতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে বিলুপ্ত হতে চলেছে বাঁশ শিল্প। বাঁশ শিল্প বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। বাঁশ দিয়ে ঘরের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করা হতো। আর এসব জিনিসপত্রের কদরও ছিল ভালো। একসময় গ্রামের ঘরে- ঘরে বাঁশ শিল্পের দেখা মিললেও এখন সেখানে জায়গা করে নিয়েছে প্লাস্টিক পণ্য। প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাব, শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিসহ প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতায় বাঁশ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য বাঁশ শিল্পের ঠিকানা এখন জাদুঘরে। একসময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্রামীণ পল্লিতে বাঁশের চটা দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাঙারি, টুকরি, মুড়া, চালুনি, মাছ রাখার খালই, ঝুড়ি ও হাঁস-মুরগির খাঁচাসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হতো। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও এ কাজে সামিল হতো। 

আর হাটবারে স্থানীয় বাজারে এমনকি বাড়ি বাড়ি ফেরি করে এসব বাঁশ-বেতের পণ্য বিক্রি হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ শিল্পের মূল উপকরণ বাঁশের মূল্য বৃদ্ধিতে বাঁশ-বেতের কারিগররা তাদের পেশা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।


 ফলে বেকার হয়ে পড়েছে গ্রামীণ বাঁশ-বেতের কারিগররা। অনেকেই আবার এ পেশা ছেড়ে চলে যাচ্ছে অন্য পেশায়। 


একসময় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন  উপজেলায়  বড় বড় বাঁশ বাগান দেখা গেলেও এখন আর বাঁশ বাগান চোখে পড়ে না। 


সম্প্রতি এ শিল্পের সাথে জড়িতদের  সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় বিভিন্ন জাতের বাঁশ জন্মাতো কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা গুলোতে এ বাঁশ দিয়েই বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো বাঁশ শিল্পের মানুষগুলো । নির্বিচারে বাঁশ ধ্বংসের কারণে বাঁশের বংশ বিস্তার কমেছে। 


কুষ্টিয়া শহরের বাঁশ বিক্রেতা আমজাদ বলেন, এখন আগের মতো বাঁশ আর বিক্রি হয়না। মানুষের মৃত্যু হলে কবরের কাজে এখনও বাঁশ ব্যবহার হচ্ছে। তাই এখনও টিকে আছি। কুষ্টযি়ার সদর উপজলোর আলামপুর ইউনিয়নের দহকুলা 

গ্রামের বাঁশ শিল্প কারিগর কুমার বলেন, বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র এখন আর আগের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে না। কারণ বর্তমানে প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি পণ্যের উপর ঝুঁকছে লোকজন। 

ফলে এ শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। বাঁশ-বেত শিল্পের দূর্দিন কাটিয়ে সুদিন ফিরিয়ে আনতে সরকারি উদ্যোগ । 


কুষ্টিয়া শহরের জেলখানা মোড়  সংলগ্ন এলাকার বাঁশ ব্যবসায়ী  বলেন, দীর্ঘদিন  বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, চাহিদা কম, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পণ্য বিক্রি না হওয়ায় এখন আর তেমন লাভ হয় না। ফলে তাদের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। এখানে বড় গোরস্থান থাকায় এ ব্যবসা এখনো ধরে রেখেছি।  এ শিল্পটি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো সংস্থাই এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার ভূমিকা নিচ্ছে না। বাঁশ শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন