রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি দিতে গিয়ে নারীসহ আটক ৪

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি দিতে গিয়ে নারীসহ আটক ৪

রাজধানী ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপে দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন এক নারীসহ চারজন।


শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাদের আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।


জানা গেছে, শিল্পকলা একাডেমির সামনের ওই দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়সহ উপমহাদেশের বিভিন্ন গুণীজনের প্রতিকৃতি আঁকা ছিল। শনিবার দুপুরে সেখানে এক নারী ও তার সহযোগীরা রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালো কালি লেপে দেন।



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নারী ব্রাশ দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি দিচ্ছেন। এসময় শাহবাগ থানার এক পুলিশ সদস্য তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এ নিয়ে ওই নারী ও তার সহযোগীরা হট্টগোল বাঁধানোর পর তাদের আটক করে ভ্যানে তোলে পুলিশ। আটকের সময় ওই নারী এবং তার সহযোগীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।


আরও পড়ুন


প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে নীলক্ষেতে চাকরিপ্রত্যাশীদের অবরোধ


গণমাধ্যমের সামনে ওই নারী প্রাথমিকভাবে দাবি করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে ছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন ‘কাঙ্গালদের আবার কিসের শিক্ষা’। রবীন্দ্রনাথকে ‘বাংলাদেশের বিরুদ্ধে’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদস্বরূপ তিনি ছবিতে কালি দিয়েছেন বলে জানান।



তবে, পরবর্তীতে সাংবাদিকদের জেরার মুখে ওই নারী নিজের অবস্থান পাল্টে দাবি করেন, তিনি অসুস্থ (জ্বরে আক্রান্ত) এবং তাকে কেবল একটি ‘সাধারণ প্রতিবাদ কর্মসূচির’ কথা বলে শিল্পকলা একাডেমির সামনে নেওয়া হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দিতে হবে— এমন বিষয় তিনি আগে থেকে জানতেন না। এছাড়া, আটকের সময় এক পুরুষ পুলিশ সদস্য তাকে ধাক্কা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।



অন্যদিকে, আয়াশ নামের এক যুবককে আটকের পর পুলিশের ভ্যানে তোলার সময় সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।



শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল খালেক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আয়াশসহ মোট তিন যুবক ও এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাদের থানায় নেওয়া হয়।



আটকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।



বর্তমানে আটকরা শাহবাগ থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন