শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ

প্রতীকী ছবি

আগামী রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ও ৮ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার। বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ দুটি ক্রয় প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। তেল কিনতে ১৯৪ কোটি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং মসুর ডাল কিনতে ৭৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব।

সাঈদ মাহবুব খান বলেন, প্রতি লিটার তেলের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭৬ টাকা ৮৮ পয়সা। আগে প্রতি লিটার ১৭৭ টাকা দরে কেনা হয়েছিল। মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে এ তেল কেনা হবে। 

অন্যদিকে প্রতি কেজি ডাল কিনতে লাগবে ৯১ টাকা ৬০ পয়সা। তুরস্কের আরবিল বাকলিয়াত হুবুবাত সান্তিক থেকে এ ডাল কেনা হবে। এ কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট বিআইএনকিউ বলেও জানান অতিরিক্ত সচিব। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৪ মার্চ বাংলাদেশে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। 

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম পড়তির দিকে থাকলেও দেশের বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় এ বছর ভোগ্যপণ্যের আমদানি কম হওয়ায় প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আগামী মাসের শেষ সপ্তাহে শুরু হচ্ছে রমজান। প্রতি বছর রমজানের আগে ভোক্তাদের মধ্যে ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ে নানা ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে কিনা। বিশেষ করে প্রতি বছর রমজানের ঠিক আগ মূহূর্তে বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দাম বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। এবারও একই আশঙ্কা রয়েছে ভোক্তাদের। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীরা আর অতিরিক্ত মুনাফা করতে পারবেন না।

দেশের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিমণ (৩৭.৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯৩০ টাকা, অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ৮৩ টাকা ও তানজানিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। এছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩১-৩২ টাকা। দেশি পেঁয়াজ ২২-২৭ টাকা, চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৮৫ টাকা। মিয়ানমারের আদা ৫৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৮৮ টাকা, চিকন মসুর ডাল ১৩৫ টাকা, মটর ডাল ৬১ টাকা, এলাচ প্রতি কেজি ১ হাজার ৩৪০ টাকা, জিরা কেজি ৫৯৫ টাকা, দারুচিনি কেজি ৩১০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ১ হাজার ৩৪৫ টাকা এবং গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫৯০ টাকায়। 

অপরদিকে পাইকারিতে পাম তেল মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫৯০ টাকা এবং সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়। চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, বাজারে রমজানকে কেন্দ্র করে পণ্যের মজুদ শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার এলসি কম হওয়ায় পণ্যের আমদানি কিছুটা কমেছে। তাই কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ রমজানের অত্যাবশীয় পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত এলসি খুলেছে। সেই পণ্য আসা শুরু হলে দাম উল্টো কমবে। 

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রমজান উপলক্ষে ভোগ্যপণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না বলে আমদানিকারক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সব সময় বলা হয়। তবে পণ্যের সরবরাহে যদি কৃত্রিম সংকট না হয় এবং সরকার যদি আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত তদারকি জোরদার করে তাহলে রমজানের সময় দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। ব্যবসায়ীরা প্রায় সময় চাহিদা ও জোগানের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার অজুহাত দেখিয়ে দাম বাড়িয়ে থাকেন। সামনে রমজানে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। 

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ