শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪

বইমেলায় কামাল হোসেন টিপুর ‘অভিমান’

বইমেলায় কামাল হোসেন টিপুর ‘অভিমান’

অল্প অল্প ভালো লাগা ধীরে ধীরে আবেগে ধরা দেয়। সে আবেগ জমতে জমতে নিজেরই অজান্তে ভালোবাসায় রূপ নেয়। আর কে না জানে, ভালোবাসার মানুষের দেয়া কষ্টগুলো অভিমানে ধরা দিয়ে অশ্রু হয়ে ঝরে। হ্যাঁ এতক্ষণ ধরে বলছিলাম, কথাসাহিত্যিক ‘কামাল হোসেন টিপু’র উপন্যাস ‘অভিমান’ নিয়ে। উপন্যাসে লেখক শুধু প্রেমের রস ছড়াননি। তিনি উপন্যাসের ভাঁজে ভাঁজে ছড়িয়েছেন, দুষ্টুমির খুনসুটি। আর বিরহের ডানা মেলে দিয়ে লেখক আপন মনে ছড়িয়েছেন, দারুণ-করুণ উপাখ্যান। তাই তো লেখক উপন্যাসের শুরু করেন এভাবে,

“ক্লাসের সবচেয়ে চঞ্চল ছেলেটির নাম আবির। সহপাঠীদের মাথায় টোকা মেরে ভালো মানুষ সাজায় সে দারুণ পটু। বন্ধুদের চিমটি কেটে আবির মুখখানা এমন হাবা-বোকা করে রাখে, যেন তার মতো শান্তশিষ্ট ছেলে ক্লাসে দ্বিতীয়টি নেই। এত কিছু করেও যেন তার স্বস্তি নেই। তার যত স্বস্তি মেলে সহপাঠীদের গায়ে ঢিল ছুড়ে। আর এই কাজটা সে প্রতিদিনই করে। এমনকি ক্লাসে শিক্ষকের উপস্থিতিতেও তার দুষ্টুমি থেমে থাকে না।

তবে আজকের দৃশ্যপটটা একেবারে ভিন্ন। ঢিলটা আবিরের আঙুল ফসকে বেরিয়ে গিয়ে সিলিং ফ্যানে লাগল। এতে ঢিলের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেল। আর সেটা গিয়ে পড়ল নিহার চোখে। তাতে নিহার বাম চোখ ফুলে টকটকে লাল হয়ে গেছে। ফুলে যাওয়া চোখ দিয়ে অনর্গল পানি বের হচ্ছে। একারণে নিহা ঠিকমতো তাকাতে পারছিল না। এতে ঘাবড়ে গিয়ে সে কেঁদে ফেলল। 


নিহার অবস্থা দেখে আবির খুব ভয় পেয়ে গেল। রাজিব চোখ বড়ো করে আবিরের দিকে তাকাল। বলল, তুই মেয়েদের দিকে ঢিল মারলি কেন? 

বোকা বোকা ভাব নিয়ে আবির বলল, আঙুল ফসকে চলে গেছে দোস্ত।

কী ছুড়েছিস আজ?

কাগজের টুকরো দিয়ে বানানো...।

আর বলতে হবে না। কাগজের ঢিল পড়েই নিহার এই অবস্থা! ভাগিস্য আজ খেজুর বা কুলের বিচি ছুড়িসনি।

আবির ফিস ফিস করে বলল, দোস্ত, আজ বোধহয় ফেঁসে যাব।”

কি, কিছু মনে পড়ছে? নিশ্চয় স্কুল জীবনের হারানো প্রেমের কথা মনে পড়ে গেছে। চলুন, উপন্যাসের আরও ভিতর থেকে আরও কিছু  পড়ে আসি, 

“পানি পান শেষে রোমানা গ্লাসটা খোকনের হাতে দিতে গেল। এমন সময় সফিক বলল, রোমানা গ্লাসটা আমাকে দাও।

রোমানা গ্লাসটা সফিকের দিকে বাড়িয়ে দিল। আবির হঠাৎ রোমানার হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে গেল। 

আবিরের এমন আচরণ দেখে সবার মুখ হা হয়ে গেল। 

সফিক রেগে গিয়ে বলল, এটা কী হলো!

আমার খুব তৃষ্ণা পেয়েছে বন্ধু।

সেটা বললেই পারতি। 

স্যরি বন্ধু।

আবির পানি পান শেষে আবার গ্লাসটা পানিভর্তি করে নিল। 

সবাই ভেবেছিল আবির হয়ত পানিভর্তি গ্লাসটা সফিককে দেবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আবির পানিভর্তি গ্লাস নিয়ে বারান্দায় চলে গেল। গ্লাসের পানি দিয়ে সে গ্লাসটা ধুয়ে নিল। এরপর ক্লাসে এসে সে আবার গ্লাসে পানি ঢালল। এবার পানিভর্তি গ্লাসটা সফিকের দিকে বাড়িয়ে দিল। 

আবিরের কাণ্ডকারখানা দেখে পুরো ক্লাস ‘থ’ হয়ে গেল। 

আবির বেঞ্চে বসতে গিয়ে রাজিবকে চোখ মারল। রাজিব ফিস ফিস করে বলল, সফিকের জন্য হঠাৎ এত দরদের কারণ কী?

গ্লাসে রোমানার আঙুলের ছাপ লেগেছিল। আমি চাইনি সফিক রোমানার আঙুলের ছাপ স্পর্শ করুক।”

‘অভিমান’ কামাল হোসেন টিপু’র নবম গ্রন্থ। এই উপন্যাসের পরতে পরতে লেখক এই ভাবে দুষ্টুমির ছলে তার ভালোলাগা-ভালোবাসার জানান দিয়েছেন। অমর ‘একুশে গ্রন্থমেলা’ ২০২৩ এ ‘অভিমান’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে। বইটি পাওয়া যাবে ‘অন্বেষা প্রকাশনে’, ‘১২নং প্যাভিলিয়নে’।

সম্পাদক : জোবায়ের আহমেদ