রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে জাপানিরা রোজ ১৫ মিনিট এই কাজ করেন

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে জাপানিরা রোজ ১৫ মিনিট এই কাজ করেন

জীবনযাপনের নানা পদ্ধতির জন্য প্রায়ই আলোচনায় আসে জাপানিদের নাম। জীবনকে উপভোগ করা এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য জাপানিরা অন্যদের থেকে ভিন্ন কায়দা মেনে চলেন। ‘ইকিগাই’, ‘শিনরিন’-এর মতো তত্ত্বগুলো এখন অনেক বাঙালিই জানেন। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে জাপানির বিশেষ এক নিয়ম মানেন। একে ‘আশিইউ’ বলা হয়। দিনে মাত্র ১৫ মিনিট এই কাজে ব্যয় করে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় জাপানিরা। 

আশিইউ কী?

আশিইউ বলতে মূলত গরম পানিতে কিছুক্ষণ পা ডুবিয়ে থাকা বোঝায়। পানির তাপমাত্রা হবে ৩৮-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরম পানিতে পা ডুবিয়ে বসলে স্নায়ু ও রক্তনালিগুলো শিথিল হয়। পাশাপাশি পায়ে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয় এবং হার্টের জটিলতা সহজে এড়ানো সম্ভব হয়। 

আশিইউ কীভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়? 

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের প্রতিটা অংশে রক্ত সঞ্চালন কমতে থাকে। কিন্তু রক্ত সঞ্চালনে বাধা তৈরি হলে, কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছালে, শরীরের ওই অংশটি ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এর মধ্যে মস্তিষ্কও রয়েছে। 

যদি কোনো কারণবশত মস্তিষ্কে রক্তনালি সংকীর্ণ হয়ে যায় বা ফ্যাট জমে, তখন রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয় এবং অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ নিস্তেজ হতে শুরু করে। তখনই স্ট্রোক হয়। 

গরম পানিতে পা চুবিয়ে কিছুক্ষণ বসলে রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয় এবং স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে। পাশাপাশি হার্ট ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে তোলে। এর জেরে হার্টের কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পায়। 

পায়ে ৭,০০০ এরও বেশি স্নায়ুপ্রান্ত থাকে। আশিইউ স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর জেরে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।

আশিইউ করবেন কীভাবে? 

একটি বড় গামলা বা পাত্রে গরম পানি নিন। পানির তাপমাত্রা ৩৮-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে হতে হবে। একটি শান্ত জায়গায় বসে ওই পানিতে ১৫-২০ মিনিট পা ডুবিয়ে বসুন। একদম শান্ত ভাবে বসতে হবে। এইভাবে ১৫-২০ মিনিট থাকতে হবে। এসময়ে আপনি বই পড়তে পারেন, চা খেতে পারেন কিংবা ব্রিদিং এক্সারসাইজ প্র্যাকটিস করতে পারেন। ১৫ মিনিট পরে পানি থেকে পা তুলে নিন এবং পা মুছে নিন।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি এই আশিইউ পদ্ধতি মানসিক চাপ, পায়ের ব্যথা-যন্ত্রণাও কমিয়ে দিতে পারে। ক্লান্তি কাটাতেও এই টোটকা দারুণ কাজ করে। 

সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ