রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

মানবতাবিরোধী অপরাধে এবার শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধে এবার শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেল রোববার (৩০ নভেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই আদেশ শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা আরও বাড়াল।

ট্রাইব্যুনাল একই সঙ্গে শাহরিয়ার কবিরকে আগামী ১২ জানুয়ারি সশরীরে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

শাহরিয়ার কবিরকে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তার বনানীর বাসা থেকে পুলিশ আটক করেছিল। প্রথমে তাকে জুলাই আন্দোলনকালে গুলিতে গৃহকর্মী লিজা আক্তার নিহতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তখন পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে রফিকুল ইসলাম ও আরিফ নিহতের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য পুলিশ আদালতে আবেদন করে।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা হক শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখান এবং ২০ অক্টোবর আদালত তাকে ফের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালতে সেদিন তাদের তোলা হলে আইনজীবীরা তাদের কটূক্তি করতে থাকেন। আইনজীবীরা বলেন, মুরগি বাবা, মুরগি খাবা? শাপলা চত্বরের খুনি। এ সময় একজন সিনিয়র আইনজীবী এসব বলতে বারণ করেন। এতে তোপের মুখে পড়েন তিনি। বলেন, ওদের দালালি করবেন না। দালালির দিন শেষ। শাহরিয়ার কবির শাহবাগের নাস্তিক। তার সব কথা আলেম, মসজিদ, মাদরাসার বিরুদ্ধে।

যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে রফিকুল ইসলাম নিহতের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই অংশগ্রহণ করে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকা মনোয়ারা হসপিটালের সামনে গুলিতে নিহত হন রফিকুল। 

পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৯ জুলাই আঞ্জুমান মুফিদুলের মাধ্যমে লাশ দাফন করা হয়। নিহতের স্ত্রী অনেক খোঁজাখুজির পর ছবি দেখে স্বামীর কবরস্থানের সন্ধান পান।

এ ঘটনায় গত ১ সেপ্টেম্বর নিহতের স্ত্রী যাত্রাবাড়ী থানায় ওই হত্যা মামলা দায়ের করেন।


সম্পাদক : অপূর্ব আহমেদ