ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবৈধ ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশনা দেন।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।
প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আবারও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন। নির্বাচনের আগে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে শফিকুল আলম বলেন , “লুট করা অস্ত্র যে করেই হোক ইলেকশনের আগে যত দ্রুত পারা যায়, এগুলোকে উদ্ধার করতে হবে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হবে। মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে চূড়ান্ত হবে ভোটের লড়াইয়ে কতজন থাকছেন। বুধবার প্রতীক বরাদ্দ করা হবে, পরদিন প্রার্থীরা প্রচার মাঠে নামছেন।
নির্বাচনি আচরণবিধি ও ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে কদিন ধরে দলগুলো নির্বাচন কমিশন অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করে আসছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও তারা বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। কোনো কোনো দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তা করছে, এমন খবর এসেছে।
এ অবস্থায় নিকারের বৈঠকে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে সারাদেশের প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে, ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।
তিনি বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিটিতে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যেগে এবং তাদের অর্থায়নে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ কার্যক্রম ইতোমধ্যে সব জেলায় শুরু হয়েছে এবং জোরেসোরে চলছে। কয়েকটি জেলায় শতভাগের কাছাকাছি কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হয়ে গেছে।
গাজীপুর জেলার অগ্রগতির কথা তুলে ধরে উপ-প্রেস সচিব বলেন, সেখানে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় অধিকাংশ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, সারাদেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগের প্রসঙ্গ ধরে এক প্রশ্নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একটি ‘সুষ্ঠু, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর’ নির্বাচন আয়োজনই সরকারের দায়িত্ব।
নির্বাচন সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো রকমের অনিশ্চয়তা নেই এবং নির্ধারিত সময়েই ভোট হবে।
“নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি হবে, একদিন আগেও না, একদিন পরেও না এবং খুব সুন্দরভাবে হবে।”
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে গঠিত অধিদপ্তরকে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগ একীভূত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্গঠনের বিষয়টিও ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির অধীনে ৫০টি থানা রয়েছে, যা একটি ‘বিশাল কর্মযজ্ঞ’। এই কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে ডিএমপিকে উত্তর ও দক্ষিণসহ একাধিক অংশে ভাগ করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের সময় হামলায় র্যাবের একজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় বাহিনীর মনোবল ও নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নে প্রেস সচিব বলেন, “এটা আমাদের, আজকে এই বিষয়েও আলাপ হয়েছে। এখানে জঙ্গল ছলিমপুরে যে কাজটা হয়েছে, খুবই জঘন্য একটা কাজ এবং এটা আমরা নিন্দা জানাই।”
তিনি বলেন, “এই ঘটনার পর ওই এলাকায় আরও জোরদারভাবে অভিযান চালানো হবে। সমস্ত বাহিনী একত্রিত হয়ে ‘কম্বাইন্ড অপারেশন’ হবে। যারা এটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যত ক্ষমতাবানই হোন না কেন, প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হবে।”
এছাড়া ওই এলাকায় থাকা লুটের অস্ত্র উদ্ধারে ‘কম্বিং অপারেশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে’, বলেন প্রেস সচিব।
বাহিনীর সদস্যদের মনোবলের ওপর এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, “না, বরং আমি মনে করি, এটা তাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।”
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















