শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ভোটার উপস্থিতি ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ:ইসি

ভোটার উপস্থিতি ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ:ইসি

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের অংশগ্রহণের চূড়ান্ত চিত্র প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 


শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, সারা দেশে ভোটার উপস্থিতির হার ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।


দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে গণতন্ত্রের নতুন পথযাত্রা হিসেবে বিবেচিত এই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে কমিশন। বিশেষ করে এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যেখানে উপস্থিতির হার ছিল ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ।



নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার ছিলেন। যারা প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান। 


ইসির তথ্যানুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রাপ্ত মোট ভোটের মধ্যে বৈধ ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রবাসীদের পাশাপাশি নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এবং কারাগারে থাকা বন্দিরাও এই পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের নাগরিক অধিকার চর্চা করেছেন। ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল।


তফসিল অনুযায়ী, গত ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে এক ধরণের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে আওয়ামী লীগ ছাড়া নিবন্ধিত মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ সব প্রধান দলই লড়াইয়ে ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই ফলাফল আসতে শুরু করে।


প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, ১৮৩ আসনে জয় পেয়ে গেছেন বিএনপি ও তাদের জোট প্রার্থীরা। অন্যদিকে, ৬৪টি আসনে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা। আর ৫টি আসনে জয় জুটেছে অন্যান্য দলের প্রার্থীদের কপালে। এছাড়া, একটি আসন গেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দখলে। 


সম্পাদক : আবদুল মাতিন