বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনে সম্মত ভারত ও রাশিয়া

সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনে সম্মত ভারত ও রাশিয়া

ভারত ও রাশিয়া প্রতিরক্ষা খাতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। দেশ দুটি তাদের ভূখণ্ডে একে অপরের সেনা মোতায়েনের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রতিটি দেশ অন্য দেশের মাটিতে সর্বোচ্চ তিন হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করতে পারবে। কেবল সেনা সদস্য নয় বরং এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় রাশিয়া ও ভারত একে অপরের দেশে যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন করার অনুমতি পাবে।  


শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাশিয়া টুডের বরাতে খবর দিয়েছে ভারতের ইংরেজি দৈনিক স্টেটসম্যান পত্রিকা।


প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা বিনিময় চুক্তি যা সংক্ষেপে আরইএলওএস নামে পরিচিত। এই আইনি কাঠামোর অধীনে দুই দেশ এখন থেকে যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ আদান প্রদানের সুযোগ পাবে। এর পাশাপাশি মানবিক মিশন পরিচালনায় একে অপরকে সহায়তা করার পথও সুগম হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত ডিসেম্বর মাসে যখন ভারত সফর করেছিলেন তখন এই বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই সফরের সময় মস্কো ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি আন্তঃসরকারি চুক্তি অনুমোদন করা হয়েছিল যার আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজে এই আইনে সই করেছেন। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে আরও কাছাকাছি আনা এবং আকাশসীমা ও বিমানঘাঁটির অবকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা নিরসন করা।


চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো লজিস্টিক সহায়তা বিনিময়। এটি দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। বন্দরগুলোতে যুদ্ধজাহাজ নোঙর করা এবং সামরিক বিমানের জন্য অবকাঠামো ব্যবহারের সুবিধা পাওয়ায় দুই দেশের অপারেশনাল সহযোগিতা আগের চেয়ে অনেক সহজ হবে। দুর্যোগকালীন সময়ে ত্রাণ সহায়তা এবং মানবিক মিশনে এই চুক্তি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


রাশিয়ার আইন বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সরকারি নথিতেও এই চুক্তির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়, এই ব্যবস্থা দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। 


সম্পাদক : আবদুল মাতিন