বর্তমান ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত শরীরচর্চা করার সময় অনেকেরই হয়ে ওঠে না। অফিস, পড়াশোনা কিংবা সংসারের নানা দায়িত্বের ভিড়ে আলাদা করে জিম বা ব্যায়ামের সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তাই সুস্থ থাকতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হিসেবে চিকিৎসকেরা প্রতিদিন হাঁটার পরামর্শ দেন।
হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা শরীরকে সচল রাখার পাশাপাশি মনও ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও স্থূলতার মতো নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
তবে যেকোনো ভালো অভ্যাসেরও একটি সীমা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন বেশি হাঁটলেই বেশি উপকার পাওয়া যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত হাঁটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই শরীরের সক্ষমতা বুঝে হাঁটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কতটা হাঁটলে তাকে অতিরিক্ত হাঁটা বলা হয়
অতিরিক্ত হাঁটা আসলে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দিয়ে বোঝানো যায় না। এটি একেক মানুষের জন্য একেক রকম। কারো জন্য ৩০ মিনিট হাঁটাই ক্লান্তিকর হতে পারে, আবার কেউ অনায়াসে দুই ঘণ্টাও হাঁটতে পারেন। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, ওজন, রোগব্যাধি এবং আগে থেকে শরীরচর্চার অভ্যাস আছে কি না, এসবের উপর নির্ভর করে হাঁটার পরিমাণ নির্ধারণ হয়।
যারা নতুন করে হাঁটা শুরু করছেন, তাদের প্রথমেই অনেকটা পথ হাঁটার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে শরীরকে অভ্যস্ত করে তুলতে হয়। শরীর যখন অতিরিক্ত ক্লান্তি বা অস্বস্তির সংকেত দেয়, তখন বুঝতে হবে হাঁটার পরিমাণ কমানো দরকার।
অতিরিক্ত হাঁটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো-
পুরোনো ব্যথা বেড়ে যেতে পারে
অতিরিক্ত হাঁটার ফলে হাঁটু, গোড়ালি বা কোমরের পুরোনো ব্যথা আবার দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে হাঁটার ভঙ্গিও বদলে যেতে পারে, যা নতুন আঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে।
পায়ে ফোসকা পড়ার আশঙ্কা
অনেকক্ষণ হাঁটলে পায়ে ফোসকা পড়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা। বিশেষ করে নতুন জুতা বা অস্বস্তিকর জুতা পরলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই হাঁটার জন্য আরামদায়ক ও মানসম্মত জুতা ব্যবহার করা জরুরি।
অতিরিক্ত ক্লান্তি
হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী হলেও সীমার বাইরে গেলে তা ক্লান্তির কারণ হতে পারে। হাঁটার সময় যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, মাথা ঘোরে বা শরীর দুর্বল লাগে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে।
পা ফুলে যাওয়া ও পেশিতে টান
দীর্ঘক্ষণ হাঁটলে অনেক সময় পায়ের তলা ফুলে যেতে পারে। একই সঙ্গে পেশিতে টান ধরা বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। অসমান বা শক্ত জায়গায় হাঁটলেও এই সমস্যা বাড়ে।
মানসিক প্রভাব
হাঁটা সাধারণত মন ভালো রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত হাঁটার ফলে শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা মানসিক অবস্থার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় বিরক্তি, হতাশা বা অবসাদের মতো অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
দিনে কতটা হাঁটা উচিত
সাধারণভাবে প্রতিদিন ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্যকে আদর্শ ধরা হয়। তবে এটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বয়স, ওজন, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং ফিটনেসের উপর নির্ভর করে হাঁটার পরিমাণ ঠিক করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ হাজার পা হাঁটাই যথেষ্ট। পরে ধীরে ধীরে সময় ও দূরত্ব বাড়ানো যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের শরীরের সংকেত বোঝা। হাঁটার পর যদি শরীর সতেজ লাগে, তাহলে বুঝতে হবে পরিমাণ ঠিক আছে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ব্যথা অনুভব হলে হাঁটার পরিমাণ কমানো প্রয়োজন।
সূত্র: এভরিডে হেলথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম






















