আনন্দ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। ইসলাম কখনোই মানুষের হাসি, খুশি বা বৈধ আনন্দ-উল্লাসকে নিরুৎসাহিত করেনি। বরং সেই আনন্দ যেন সীমালঙ্ঘন, গুনাহ বা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। বিশ্বকাপ, বিয়ে কিংবা সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত। একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে আনন্দের মুহূর্তেও নিচের বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
১. সালাত ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হওয়া
আনন্দ-উল্লাস কখনোই আল্লাহর আনুগত্যকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু খেলা দেখা, উৎসব বা অনুষ্ঠানের ব্যস্ততায় অনেকে সালাত বিলম্বিত করেন, এমনকি ছেড়েও দেন।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়।’ (সুরা মায়েদা: ৯১)
একজন মুমিনের আনন্দ কখনোই তার ইবাদতের পথে বাধা হতে পারে না।
২. বাজি বা জুয়ার শর্তে আনন্দ করা
বিশ্বকাপ বা বড় কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের মধ্যে প্রায়ই শোনা যায়- ‘তোর দল জিতলে তুই খাওয়াবি, আর আমার দল জিতলে আমি।’ আলেমদের মতে, এ ধরনের পারস্পরিক শর্তযুক্ত বাজি জুয়ার (মাইসির/কিমার) অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে উভয় পক্ষের লাভ-লোকসানের শর্ত যুক্ত থাকে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের তীর- এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা মাযেদা: ৯০)
৩. ট্রলিং, গালিগালাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ আচরণ
খেলার উত্তেজনা বা বিজয়ের আনন্দে অনেকেই প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ করেন, গালিগালাজ করেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুমিন ব্যক্তি গালিদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী কিংবা কুরুচিপূর্ণ বাক্য ব্যবহারকারী নয়।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৭৭)
একজন মুসলমানের আনন্দ যেন কখনো অন্যের সম্মানহানির কারণ না হয়।
৪. জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অন্যের শান্তি নষ্ট করা
উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো, আতশবাজি ফোটানো, গভীর রাতে অপ্রয়োজনীয় হইচই করা কিংবা রাস্তা আটকে উল্লাস করা অন্য মানুষের কষ্টের কারণ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ১০; তিরমিজি: ২৬২৭)
আলেমরা বলেন, এই হাদিসের আলোকে এমন সব কাজ থেকেও বিরত থাকা উচিত, যা অকারণে অন্যের ক্ষতি, ভয় বা দুর্ভোগের কারণ হয়।
৫. অপচয় ও বিলাসিতায় সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া
আনন্দের উপলক্ষে অযথা অর্থ ব্যয়, খাবারের অপচয়, অতিরিক্ত সাজসজ্জা কিংবা অনেক ক্ষেত্রে আতশবাজিতে অর্থ নষ্ট করা ইসলামের মিতব্যয়িতার শিক্ষার পরিপন্থী।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা ইসরা: ২৭)
একই অর্থ অসহায় মানুষের উপকারে ব্যয় করলে তা অনেক বেশি কল্যাণকর হতে পারে।
আনন্দ মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। ইসলাম কখনোই মানুষের হাসি, খুশি বা বৈধ আনন্দ-উল্লাসকে নিরুৎসাহিত করেনি। বরং সেই আনন্দ যেন সীমালঙ্ঘন, গুনাহ বা অন্যের কষ্টের কারণ না হয়, সেদিকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে। বিশ্বকাপ, বিয়ে কিংবা সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক সময় অজান্তেই এমন কিছু কাজ করে ফেলি, যা ইসলামের দৃষ্টিতে অনুচিত। একজন সচেতন মুসলমান হিসেবে আনন্দের মুহূর্তেও নিচের বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
১. সালাত ও আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হওয়া
আনন্দ-উল্লাস কখনোই আল্লাহর আনুগত্যকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু খেলা দেখা, উৎসব বা অনুষ্ঠানের ব্যস্ততায় অনেকে সালাত বিলম্বিত করেন, এমনকি ছেড়েও দেন।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে বিরত রাখতে চায়।’ (সুরা মায়েদা: ৯১)
একজন মুমিনের আনন্দ কখনোই তার ইবাদতের পথে বাধা হতে পারে না।
২. বাজি বা জুয়ার শর্তে আনন্দ করা
বিশ্বকাপ বা বড় কোনো খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের মধ্যে প্রায়ই শোনা যায়- ‘তোর দল জিতলে তুই খাওয়াবি, আর আমার দল জিতলে আমি।’ আলেমদের মতে, এ ধরনের পারস্পরিক শর্তযুক্ত বাজি জুয়ার (মাইসির/কিমার) অন্তর্ভুক্ত। কারণ এতে জয়-পরাজয়ের ওপর নির্ভর করে উভয় পক্ষের লাভ-লোকসানের শর্ত যুক্ত থাকে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি এবং ভাগ্য নির্ধারণের তীর- এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাকো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা মাযেদা: ৯০)
৩. ট্রলিং, গালিগালাজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ আচরণ
খেলার উত্তেজনা বা বিজয়ের আনন্দে অনেকেই প্রতিপক্ষকে বিদ্রূপ করেন, গালিগালাজ করেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুমিন ব্যক্তি গালিদাতা, অভিশাপকারী, অশ্লীলভাষী কিংবা কুরুচিপূর্ণ বাক্য ব্যবহারকারী নয়।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৭৭)
একজন মুসলমানের আনন্দ যেন কখনো অন্যের সম্মানহানির কারণ না হয়।
৪. জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অন্যের শান্তি নষ্ট করা
উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম বাজানো, আতশবাজি ফোটানো, গভীর রাতে অপ্রয়োজনীয় হইচই করা কিংবা রাস্তা আটকে উল্লাস করা অন্য মানুষের কষ্টের কারণ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।’ (সহিহ বুখারি: ১০; তিরমিজি: ২৬২৭)
আলেমরা বলেন, এই হাদিসের আলোকে এমন সব কাজ থেকেও বিরত থাকা উচিত, যা অকারণে অন্যের ক্ষতি, ভয় বা দুর্ভোগের কারণ হয়।
৫. অপচয় ও বিলাসিতায় সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া
আনন্দের উপলক্ষে অযথা অর্থ ব্যয়, খাবারের অপচয়, অতিরিক্ত সাজসজ্জা কিংবা অনেক ক্ষেত্রে আতশবাজিতে অর্থ নষ্ট করা ইসলামের মিতব্যয়িতার শিক্ষার পরিপন্থী।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ (সুরা ইসরা: ২৭)
একই অর্থ অসহায় মানুষের উপকারে ব্যয় করলে তা অনেক বেশি কল্যাণকর হতে পারে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম
























