ভারতের ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও তীব্র ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। চতুর্দশ রাজ্য সরকারি কর্ম কমিশনের প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। আন্দোলন আরও জোরদার করতে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো। এদিকে, আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) ১৪তম প্রিলিমিনারি এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) পরীক্ষায় বড় ধরনের দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই কমিশনগুলো দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। যার ফলে লাখ লাখ যুবকের ভবিষ্যত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করলে রাজ্য সরকার এই মামলার তদন্তের ভার সিআইডির হাতে তুলে দেয়।
এরপর সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর ২২ জুলাই জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন। রাঁচিতে বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি এই মামলার তদন্তের ভার সিবিআইকে দেওয়া হোক।
এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষা বাতিল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গতকাল রোববার রাজধানী রাঁচির আলবার্ট এক্কা চকে মশাল মিছিল করেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। একই দাবিতে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো।
সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে মাহাতো জানান, গত মাসে ১৪তম জেপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই এই আন্দোলনের সূচনা হয়।
বার্তা সংস্থা এএনআইকে তিনি বলেন, ‘ঠিক এক মাস আগে, অর্থাৎ গত মাসের ২ তারিখে ১৪তম প্রিলিমিনারি টেস্টের (পিটি) ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। আমরা ৫ জুলাই এই আন্দোলন শুরু করি, ৭ জুলাই রাজ্য সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি এবং ৮ জুলাই কুশপুত্তলিকা দাহ করে প্রতিবাদ জানাই। এরপর ২০ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রমাণ জমা দিই, যার ফলে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।’
মাহাতোর অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চললেও সরকার এবং ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের যথাযথ কোনো সমাধান দিতে পারেনি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছে দেওয়া দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ড সরকার এবং কমিশন উভয়ের বর্তমান মনোভাব রাজ্যজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের মনোবল অটুট রাখতে এবং এই সংগ্রামকে আরও জোরদার করতে আমি আজ থেকে অনশন শুরু করছি। আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ১৪তম পিটি পরীক্ষা বাতিল করা এবং টিডিপিএল সংস্থা থেকে পরিচালিত সব পরীক্ষার তদন্ত নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মনোবল অটুট রাখতে এই লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি অনশনে বসেছি। আমি এই অনশনের সব নিয়ম মেনে চলব এবং নিশ্চিত করব যে সরকার নতজানু হয়। আমরা নিশ্চিত করব, সব অভিযুক্ত কঠোর শাস্তি পায়।
এদিকে, আন্দোলনের প্রতি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থনের পর বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়েছে। রোববার আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে তাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সিজেপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
পাশাপাশি আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে যে ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে, তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এবিপি
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























