বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহের চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা ১৩৮৩ সনের ১২ ভাদ্র ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য স্রষ্টা। মৃত্যুর অর্ধশতক পরও তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে অন্যায়, নিপীড়ন, শোষণ এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে বার্তা উচ্চারিত হয়েছে, তা এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।


১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। জীবনের সংগ্রাম তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি; বরং সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে আরও গভীর করেছে। কবিতা ও গান ছাড়াও হামদ, নাত, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি অসামান্য অবদান রাখেন।


নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবনের সময়কাল ছিল তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত—প্রায় ২৩ বছর। এই অল্প সময়েই তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে এমন বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি রেখে গেছেন, যা তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে। তাঁর লেখায় যেমন প্রেম ও সৌন্দর্যের প্রকাশ রয়েছে, তেমনি রয়েছে সাম্য, স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা। শোষিত মানুষের অধিকার এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি দেয়।


সাহিত্যের পাশাপাশি নজরুল সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে। তাঁর লেখনীতে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁরই ভাষায়, ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’—এই দ্বৈত সত্তাই তাঁর শিল্পী ও সংগ্রামী পরিচয়কে তুলে ধরে।


বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করে রাষ্ট্র। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয় এবং একই বছরে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।


মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে কবির সমাধি পর্যন্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পাশাপাশি আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।


কাজী নজরুল ইসলাম আজ কেবল একটি ঐতিহাসিক নাম নন; তাঁর সাহিত্য অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন