শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

কক্সবাজারে হোটেলের বারে যুবক খুন, আটকের পর অভিযুক্তের মৃত্যু

কক্সবাজারে হোটেলের বারে যুবক খুন, আটকের পর অভিযুক্তের মৃত্যু

কক্সবাজারে একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু, পুলিশ হেফাজতে থাকা ওই যুবকও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।


শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।  


এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।


কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


তিনি বলেন, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়। পরে আহত অবস্থায় চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হলে সকালে তার মৃত্যু হয়।


পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাশেদসহ কয়েকজন যুবক হোটেলের দোতলার বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়। পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে এবং ওই যুবকরা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তার পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।


নিহত রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয় এবং সোলাইমানকে স্থানীয় লোকজন মারধরের পর আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।


তিনি আরও বলেন, কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন