সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল বাংলাবাজার পত্রিকা.কম চকলেটের তৈরি আস্ত ট্রেন, গড়ল নতুন বিশ্ব রেকর্ড বাংলাবাজার পত্রিকা.কম শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ১৮ মাস পর নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরলেন ড. ইউনূস বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সংসদ বসছে ১২ মার্চ, নির্বাচিত হবেন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামকে এক করে দেখা ঠিক হবে না’ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম নতুন সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রণয় ভার্মা বাংলাবাজার পত্রিকা.কম রাজনৈতিক হয়রানিমূলক সহস্রাধিক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন বাংলাবাজার পত্রিকা.কম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাবাজার পত্রিকা.কম মাদারীপুরে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, ৪ ঘণ্টায় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ

লেবুর হালি ২০০

লেবুর হালি ২০০

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতে না হতেই অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন কাঁচাবাজার। নিত্যপণ্যের দোকানে নেই মূল্য তালিকা, আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে দাম। আকাশছোঁয়া দামে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে রোজায় প্রয়োজনীয় পণ্য লেবু, খেজুর। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম কয়েক গুণ বেড়ে এখন রীতিমতো বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।


প্রথম রমজানের শুরু থেকে চট্টগ্রামের বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় চারগুণ মূল্য বৃদ্ধিতে বিক্রি হচ্ছে লেবু। বাজারে ছোট লেবুর হালিও এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে মিলছে না, আর মাঝারি ও বড় লেবুর দাম পৌঁছেছে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়। 


চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ও অলিগলির ভ্রাম্যমাণ দোকান ঘুরে দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এক হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে গত সপ্তাহে দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা।


বর্তমানে সর্বনিম্ন ৬০ টাকা থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও বড় আকারের লেবুর হালি ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হলেও দরদাম করে ক্রেতারা প্রায় ১৫০-১৬০ টাকায় কিনছেন।


বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট, চকবাজার ও কাজীর দেউড়ি বাজারে প্রতি পিস লেবুর দাম ৫০ থেকে ৩০ টাকা হাঁকতে দেখা গেছে। দর-কষাকষির পর একজন গ্রাহক দুটি লেবু কিনেছেন ৯০ টাকায়।


অনেক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবুর মজুদ ছিল কম। দাম বেশি। আবার অনেক বাজারে লেবু নেই বললেই চলে। যে লেবুগুলো আছে সেগুলোও পরিপক্ব নয়।


একটু কম দামের যে লেবু বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোতে রস নেই বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।


তারা বলছেন, একটা শ্রেণি লেবুর বাজারে সংকট তৈরি করে রেখেছে। দেখার কেউ নেই। কিছুদিন আগেও বাজারে লেবুর ছড়াছড়ি ছিল। সেই লেবু হঠাৎ গায়েব। যা আছে সেগুলোর দাম বেশি। অনেকে বেশি দামের আশায় অপরিপক্ব লেবু গাছ থেকে নিয়ে এসেছে। বাধ্য হয়ে মানুষ সেগুলোও কিনছে। 


চকবাজার কাঁচা বাজারের লেবু বিক্রেতা জসিম উদ্দিন গণাধ্যমকে বলেন, বাজারে লেবুর সংকট। আমাদের পাইকারি বাজারেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিছুদিন আগেও যে দামে এক ডজন লেবু ১০০ টাকায় বিক্রি করেছি, এখন সেই দামে এক হালিও পাওয়া কঠিন। 


এদিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেই প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা।


জানা গেছে, চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এই উপজেলা লেবু ও আনারসের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখানকার কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে সরবরাহ করা হয়। তবে চলতি মৌসুমে আকস্মিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।


মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হতো ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি ১৫০–১৭৫ টাকা এবং ছোট ৮০–১০০ টাকা দরে।


বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে গেছে।


খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে সাইজভেদে প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও বাজার খরচ যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন