শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ইউরোপ যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ অভিবাসীর মৃত্যু বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ভারত থেকে পাইপলাইনে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল আসা শুরু বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ভুয়া চিকিৎসক তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম সংসদে সাউন্ড সিস্টেমে বিভ্রাট: নাশকতার সন্দেহে তদন্ত কমিটি গঠন বাংলাবাজার পত্রিকা.কম নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমান বাংলাবাজার পত্রিকা.কম ভিসা নিয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা বাংলাবাজার পত্রিকা.কম আমজনতার তারেককে কাছে ডেকে নিলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাবাজার পত্রিকা.কম শত্রুপক্ষকে শায়েস্তার জন্য ইরানকে ভয়ংকর ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া বাংলাবাজার পত্রিকা.কম জ্বালানি মজুত-চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাবাজার পত্রিকা.কম বর্তমান পোশাকে পুলিশ সদস্যরা সন্তুষ্ট নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শত্রুপক্ষকে শায়েস্তার জন্য ইরানকে ভয়ংকর ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া

শত্রুপক্ষকে শায়েস্তার জন্য ইরানকে ভয়ংকর ড্রোন দিচ্ছে রাশিয়া

২৯তম দিনে গড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত। প্রথম আঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেইসঙ্গে ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হচ্ছে ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনাও। 


তবে, শক্ত জবাব দিয়ে চলেছে তেহরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলনে ভয়ংকর সব হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। সব মিলিয়ে যতটা সহজে ইরানকে পরাস্ত করবেন বলে ভেবেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা, তেমনটা তো হচ্ছেই না; বরং ইরানের জবাবের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ছে তাদের সব পরিকল্পনা।


এমন পরিস্থিতিতে ইরানে আরও ভয়াবহ আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র; প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে ভয়ংকর স্থল অভিযানের। এ অবস্থায় ইরানের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে আরেক সুপার পাওয়ার রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধে দারুণ সফলতা দেখিয়ে চলা শাহেদ ড্রোনের উন্নত সংস্করণ ইরানে পাঠাচ্ছে মস্কো। 


শনিবার (২৮ মার্চ) মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা এপি।


মূলত ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক শাহেদ ড্রোনই ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করে আসছিল রাশিয়া। তবে, এ ড্রোনে এখন জেট ইঞ্জিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নেভিগেশন, উন্নত জ্যামার-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ও স্টারলিংক ইন্টারনেট ডিভাইস যুক্ত করে আরও শক্তিশালী করেছে মস্কো। সেই উন্নত ড্রোনই এখন তেহরানে পাঠানো হচ্ছে।


আজারবাইজান হয়ে মানবিক সহায়তার নামে ট্রাকে এই ড্রোন পরিবহন করা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। তবে, চালানটি কত বড় এবং এটি এবারই প্রথম সরবরাহ নাকি ধারাবাহিক সরবরাহের অংশ, তা এখনো স্পষ্ট নয় তাদের কাছে। 


অবশ্য, ইরানে ড্রোন পাঠানোর তথ্য অস্বীকার করেছেন ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ।


অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ‘অন্য কোনো দেশ ইরানকে যা-ই সরবরাহ করুক না কেন, তা আমাদের অভিযানের সাফল্যে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’


প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।


পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এ যৌথ হামলার প্রথম ধাক্কাতেই প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য। ২৭ দিন ধরে চলমান যুদ্ধে এরই মধ্যে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে হারিয়েছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ইরানের ২ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এখন পর্যন্ত।


তবে, পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে এরই মধ্যে প্রায় ভেঙে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।


এ অবস্থায় রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ইরানের হাতে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন