রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

নাচ–গান করার অভিযোগে মরদেহ দাফনে বাধা ‍

নাচ–গান করার অভিযোগে মরদেহ দাফনে বাধা ‍

নাচ-গান করার অভিযোগ এনে চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে সমঝোতা করে তাকে দাফন করে পরিবার।


স্বজনরা বলেন, ‘‘বুধবার ঝিনাইদহে সুবর্নার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলতদিয়াড়ের ভাড়া বাড়ি নিয়ে আসা হয়। সেখানে দাফন করতে বাধা দেয় এলাকাবাসী। পরে সমঝোতা করে রাত ১০টায় তাকে দৌলায়দিয়াড় গ্রামের কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।


চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “সদর উপজেলার দৌলাতদিয়াড় গ্রামে দাফন করতে গেলে প্রথমে বাধা আসে। পরে সেখানেই দাফন হয়েছে। সমঝোতা হয়েছে এলাকাবাসীর সঙ্গে।”


এলাকাবাসী কেন বাধা দিয়েছে জানতে চাইলে সুবর্নার স্বজনরা বলেন, ‘‘তারা বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতে হলে জীবিত থাকা অবস্থাতেই তাকে টাকা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য হতে হবে। যেহেতু সুবর্না নাচ-গান করত এ কারণেও অনেকে বাধা দিয়েছে।


আবার কেউ কেউ বলেছেন, সুবর্নার পরিবার এখানে ভাড়া থাকে, তাই তাকে পৈত্রিক বা স্বামী বাড়িতে দাফন করা হোক। নাচ-গান করার কারণে তাকে ‘খারাপ মেয়েমানুষ’, ‘চরিত্র ভাল না’ এসব কথাও বলা হয়েছে।


দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানাল পাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে। সংসারে পর পর দুই মেয়ে এক ছেলে আছে। দাম্পত্য কলহের জেরে ছয় বছর আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপার উপজেলার বাসিন্দা পাভেল নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।


সুবর্ণার পরিবারের লোকজনের দাবি, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তিনি বুধবার আত্মহত্যা করেন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে বৃহস্পতিবার পরিবারের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়। লাশ চুয়াডাঙ্গায় এনে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাধা দেন স্থানীয়রা।


স্থানীয় আসাদুজ্জামান নামে একজন বলেন, “মেয়েটির আচার-ব্যবহার ও চরিত্র ভালো ছিল না। এলাকার লোকজন তাকে আমাদের কবরস্থানে দাফন দিতে আপত্তি জানিয়েছেন। কারণ সে অসামাজিক কাজ করত। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করা হোক এটাই এলাকাবাসীর দাবি ছিল।”


আরেকজন মিনারুল ইসলাম বলেন, “এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না। এর আগে সদস্য হওয়ার কথা বললেও তারা আগ্রহ দেখাননি। তাই আমরা তাকে এখানে দাফন করতে মানা করেছি।”


একই এলাকার আকাশ হোসেন বলেন, “সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় অস্বাভাবিক কাজ করে, যেটি এই সমাজ মেনে নেয় না। ফেসবুক টিকটকে অশ্লীল ভিডিও করে। এ ছাড়া অসামাজিক নাচ-গানের কারণে তার লাশ দাফন করতে মানা করা হয়েছিল।”


তবে সুবর্না আক্তারের সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, “এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এখন সুবর্নার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া হয়। প্রথমে কবর খুঁড়তে দেওয়া হয়নি। পরে সমঝোতা করে দাফন করা হয়েছে।”


আলুকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দৌলতদিয়াড় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবলুর রহমান বলেন, “কবরস্থানের কিছু নিয়ম-কানুন করা হয়েছে। করবস্থানে দাফন হতে হলে তাকে জীবিত অবস্থায় কবরস্থানের সদস্য হতে হবে টাকা দিয়ে। কিন্তু ওই নারী তা করেনি।


“সুবর্ণা জীবিত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন অসামাজিক নাচ-গান করত। যা এই সমাজ মেনে নেয় না। যে কারণে ওই কবরস্থান কমিটি দাফনে তার মরদেহটি বাধা দিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। পরে জানতে পারছি, ঘটনাটি মীমাংসা করেছে এলাকাবাসি এবং দাফন হয়েছে।”

সম্পাদক : আবদুল মাতিন