বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠানই বিপজ্জনক বর্জ্যের সঠিক সংরক্ষণ করছে না যা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে বিপজ্জনক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
রাজধানীতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’-এর ওপর ভয়েস এর একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
‘ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১’-এর ওপর ‘ভয়েস’ একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আজ ২৩ মে শনিবার ঢাকার ‘এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ’ মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েসন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশন (এপিসি)’র সহায়তায় বেসরকারি অধিকার-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’ এই সভার আয়োজন করে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপাদন করে, যার মধ্যে মাত্র ১০%-এরও কম আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যবহার হচ্ছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ১৫টি প্রতিষ্ঠানের ১০০% পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলেও, গত অর্থবছরে তাদের কেউই একটিও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সংগ্রহ করেনি; ৭৮% প্রতিষ্ঠানের কোনো টেক-ব্যাক ব্যবস্থা নেই, মাত্র ২২% Restriction of Hazardous Substances (RoHS) মান যাচাই করে এবং কোনো প্রতিষ্ঠানই বিপজ্জনক বর্জ্যের সঠিক সংরক্ষণ করছে না যা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে বিপজ্জনক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এবং এই নিষ্ক্রিয়তার ফলে বছরে ২০০ থেকে ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সুযোগ অব্যবহৃতই থেকে যাচ্ছে।
ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ এই উদ্যোগের কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য (ই-বর্জ্য) ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি ইতিহাস তৈরি করেছিল। কিন্তু শুধুমাত্র আইনগুলো কাগজ-কলমে থাকলেই তা সমাজ কিংবা পরিবেশকে রক্ষা করতে পারে না, এর জন্য প্রয়োজন সঠিক বাস্তবায়ন।”
ই-বর্জ্যের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন ভয়েস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রামস) মুশাররাত মাহেরা। তিনি বলেন, “ই-বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। যার কারণে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, অকালমৃত্যু বাড়ছে। এর ভয়াবহতা কমাতে দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।”
প্রতিবেদনের মূল ফলাফল ও পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করেন প্রতিবেদনের মূল লেখক ভয়েস-এর বন্ধন দাস।
উন্নয়নধারা ট্রাস্টের মোঃ আমিনুল রাসেল বলেন, পরিবেশগত বৃহত্তর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “ই-বর্জ্য বিষয়টি প্রথমে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হলেও, পরবর্তীতে বিভিন্ন দূর্ঘটনার পর নেতিবাচক বিষয়গুলো উঠে আসে।বিভিন্ন গবেষণায় দেখে গেছে, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন নিয়ম থাকলেও বাস্তবিক ক্ষেত্রে সেগুলো মানা হয় না।”
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম




















