আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঈদের আগে ও পরে নগরবাসীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও ট্রাফিক বিভাগ। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, কোরবানির পশুর হাট, শপিংমল ও আবাসিক এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র বলছে, পুরো নগরীকে এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রায় দুই হাজার ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ছিনতাই, চুরি, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, বাসাবাড়িতে চুরি, পশুবাহী গাড়ি থেকে চাঁদাবাজি ও জাল নোট চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে—এই ঝুঁকি বিবেচনায় আগেভাগেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটকেন্দ্রিক আলাদা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে, যেখান থেকে যাত্রী চলাচল মনিটরিং করা হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার স্থানগুলো যেমন গাবতলী, আবদুল্লাহপুর, যাত্রাবাড়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১১টি চেকপোস্ট এবং নগরজুড়ে ৬০টির বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
এ ছাড়া পশুর হাটগুলোকে ঘিরে আলাদা নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হাটে ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল রুম স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বড় অঙ্কের লেনদেনের জন্য মানি স্কট টিম থাকবে, কেউ বেশি টাকা বহন করলে বা ঝুঁকিতে পড়লে ৯৯৯ বা কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করলেই পুলিশ সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে জাল টাকা শনাক্তের মেশিন বসানো হয়েছে এবং ব্যাংকের সহায়তায় বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি ও ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, ঈদের আগে যানবাহনের চাপ বাড়লেও শপিংমল, পশুর হাট ও টার্মিনাল এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। মহাসড়কমুখী যানবাহনের চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং মোবাইল প্যাট্রলিং জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছিনতাইকারী, মলম পার্টি ও অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এদিকে ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ডাকাতির ঝুঁকি বিবেচনায় আবাসিক এলাকায় রাতের টহল বাড়ানো হয়েছে এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বাসা ফাঁকা রেখে যাওয়া পরিবারগুলোকে স্থানীয় থানা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















