গত বছরের মতো এবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টাকারী দেশের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত কয়েক বছর ধরেই এই তালিকায় এই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ২০২৬ সালে এসে ইতালির পাশাপাশি সাগরপথে গ্রীসে প্রবেশের তালিকাতেও এখন শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ, যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
এ বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, তাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের। ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক থেকে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশিদের নিয়ে রওনা হয় একটি নৌকা। দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে ছিল নৌকাটি। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এমন মৃত্যুযাত্রা থামেনি।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এভাবে ইতালি ও গ্রীসে প্রবেশ করতে গিয়ে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি থেকে অসংখ্য বাংলাদেশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এত কিছুর পরও ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের তথ্যের বরাত দিয়ে ব্র্যাক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৪ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি একইপথে ইতালি প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রীসে গেছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, এভাবে যারা ইউরোপে যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশের অন্তত ১০-১২টি জেলার মানুষ এভাবে ইউরোপে যেতে মরিয়া। এসব ক্ষেত্রে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতারিত বা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা দেশে ফিরে মামলা করলেও মূল আসামিরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
ডেস্ক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম























