হাতে-পায়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে পিটিয়ে ও মাথার চুল কেটে নির্যাতন করে খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে তাকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা ছাত্র হল সংলগ্ন ক্যাম্পাসের বাইরে মসজিদ গলিতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানায়, আজমুল নগরীর হরিণটানা এলাকায় খুবি খাজা হল সংলগ্ন মসজিদ গলির ৫ম তলা বাড়ির একটি মেসে ভাড়া থাকত। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা-১টার দিকে তাকে মারধরের ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থী চুয়াডাঙ্গা জেলার বড় শলুয়ার মো. কুতুব উদ্দিনের ছেলে। এদিকে মৃত্যুর খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে এলে পুলিশের বিরুদ্ধে তাদেরকে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। গতকাল দুপুর ১টার দিকে মর্গে ছেলের লাশের পাশ থেকে বাবা-মাকে ডেকে এনে হাসপাতালের প্রিজন সেলের মধ্যে তাদেরকে বসিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে খুবির খাজা হল সংলগ্ন মসজিদ গলির একটি ভবনের ছাদে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর ও চুল কেটে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মেসের অন্য শিক্ষার্থীদের খাবার চুরি, গেঞ্জি, টাকা-পয়সা চুরির অভিযোগ আনা হয়। এদিকে নির্যাতনের মাঝেই ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কাছে ১ লাখ টাকা মীমাংসার জন্য দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহতের পিতা মো. কুতুব উদ্দিন জানান, রাতে তাকে খুলনা থেকে ফোন দিয়ে জানানো হয় তার ছেলের বিরুদ্ধে ভাত চুরি ও গেঞ্জি-টাকা পয়সা চুরির অভিযোগ আছে। ঘটনাটি মিটমাট করতে তাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ওই সময় তিনি অভিযোগকারীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং দ্রুত তিনি খুলনায় আসার কথাও বলেন। কিন্তু খুলনায় আসার আগেই তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওই নম্বরে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, প্রিজন সেলে নিহতের বাবা-মাকে আটকে রাখা হয়নি। মর্গের সামনে বসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তাদেরকে প্রিজন সেলে এনে হয়তো বসিয়ে রাখা হয়। তারপরও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















