বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম

গণমাধ্যমের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি বিএনসিইউ’র

গণমাধ্যমের অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি বিএনসিইউ’র

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে তাদের পেশাগত অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন (বিএনসিইউ)। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের ওপর সহিংসতা বন্ধে সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি।


বুধবার (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও মানবাধিকারকর্মী মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী।


বিবৃতিতে সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে দেশব্যাপী সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী এবং টেলিভিশন চ্যানেলের যানবাহনে যেভাবে মব সৃষ্টি করে হামলা ও আক্রমণ করা হচ্ছে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীরা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দেশের বহু সাংবাদিক এখনো ন্যূনতম বেতন, চাকরির নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, সন্তানদের লেখাপড়াসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিদ্যমান জটিলতা দূর করারও আহ্বান জানানো হয়।


সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো, ছুটি, প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


বিবৃতিতে সরকারের তালিকাভুক্ত সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাংবাদিকদের স্থায়ী নিয়োগপত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরিবারকে ফ্যামিলি পেনশনের আওতায় আনা এবং প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও সমস্যা দূর করার দাবি জানানো হয়।


এ ছাড়া ঈদ, পূজা, নববর্ষসহ বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে উৎসব বোনাস বাধ্যতামূলক করা এবং গৃহহীন সাংবাদিকদের জন্য সরকারি আবাসন সুবিধা ও আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিনামূল্যে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বীমা’ কার্ড প্রদানেরও দাবি জানানো হয়।


তথ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের গণমাধ্যম-সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্যও জোর সুপারিশ করা হয়েছে।


সাংবাদিকদের স্বার্থে ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন করে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের চেয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা এখন বেশি জরুরি।


বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পূর্ববর্তী সরকারের পতন হলেও দেশে এখনো গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। বিগত সরকারের আমলে স্বাধীন সাংবাদিকতার সুযোগ ভীষণভাবে সংকুচিত থাকলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা ভয়ের পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।


দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করা না হলে সরকারের ওপর থেকে জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে— এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সম্পাদক : আবদুল মাতিন