সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

উন্নয়নের প্রয়োজনে যেন প্রকৃতি ধ্বংস না হয়: প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়নের প্রয়োজনে যেন প্রকৃতি ধ্বংস না হয়: প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় স্থপতি ও প্রকৌশলীদের প্রকৃতির সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যতটুকু সম্ভব প্রকৃতিকে আঘাত না করে এবং পরিবেশ নষ্ট না করে স্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিকায়নকৃত উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।


স্থপতি ও প্রকৌশলীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ওসমানী উদ্যান তৈরি করতে গিয়ে বেশ কিছু বৃক্ষ কাটা পড়েছে। স্থাপত্যশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি আমার বিশেষ আহ্বান থাকবে, আসুন, যতটুকু সম্ভব প্রকৃতিকে আঘাত না করে, পরিবেশ নষ্ট না করে আমরা আমাদের স্থাপনাগুলো গড়ে তুলি। দেশের প্রয়োজনে ও মানুষের কল্যাণে আমাদের স্থাপনা বানাতেই হবে, উন্নয়নকাজ চালিয়ে যেতে হবে। তারপরও আমরা যদি সতর্ক থাকি এবং যতটুকু সম্ভব প্রকৃতিকে সংরক্ষিত রাখতে পারি, তবে দিন শেষে তা আমাদের সবারই উপকারে আসবে।"



পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক কিছু পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "কয়েক দিন আগে আমি রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। সেখানে আমার কাছে মনে হয়েছে, সরকারি হাসপাতাল বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসভবনের তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা তুলনামূলকভাবে ভালো। আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চারপাশের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।"


ওসমানী উদ্যানের অতীত অবস্থার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, উদ্যানটি বহু বছর ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিকে একটি আধুনিক ও সুন্দর রূপ দিয়ে সংস্কার করেছে এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পর আজ তা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।


দর্শনার্থীদের নাগরিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "যারা এই ওসমানী উদ্যান ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ দেখতে আসবেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান থাকবে- এখানকার পরিবেশ যেন নষ্ট না হয় বা কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা না ছড়ায়, সে কাজগুলো থেকে আমরা বিরত থাকব। এখানকার দেখাশোনার দায়িত্বে যারা থাকবেন, তাদের আপনারা সার্বিক সহযোগিতা করবেন। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভসহ পুরো স্থাপনাটি দেশের সম্পদ এবং আমাদের আবেগের জায়গা। তাই যারা এখানে আসবেন, তাদের দায়িত্ব হবে এই পবিত্র পরিবেশটি যেন পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর থাকে তা নিশ্চিত করা।"

সম্পাদক : আবদুল মাতিন