বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আবারও এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর। হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স ২০২৬ এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা এখন বিশ্বের ১৯২টি দেশে কোনো আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুবিধা পাচ্ছেন। এশিয়ার আধিপত্য বজায় রেখে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যাদের নাগরিকরা ১৮৮টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান।
হেনলি সূচকে ইউরোপের দেশগুলোও বরাবরের মতো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ১৮৬টি দেশে ভিসামুক্ত যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলো যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে গত দুই দশকে সবচেয়ে চমকপ্রদ উন্নতি দেখিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৬ সাল থেকে দেশটি ১৪৯টি নতুন গন্তব্যের সাথে ভিসামুক্ত চুক্তি করে সূচকে ৫৭ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এবারের সূচক কিছুটা ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে। গত বছরের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ৯৫ নম্বরে। বর্তমানে বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা বিশ্বের ৩৭টি দেশ ও অঞ্চলে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন যা আগে ছিল ১০০তম অবস্থানে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই অগ্রগতি পর্যটন ও ব্যবসায়িক যাতায়াতের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাসপোর্ট সূচকের একেবারে তলানিতে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো। মাত্র ২৪টি দেশে প্রবেশাধিকার নিয়ে তালিকার শেষ অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তান। সিরিয়া ও ইরাকের অবস্থানও যথাক্রমে ১০০ ও ৯৯ নম্বরে।
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের চেয়ারম্যান ক্রিশ্চিয়ান এইচ কেলিন জানান, পাসপোর্টের শক্তি এখন কেবল ভ্রমণের মাধ্যম নয় বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইএটিএ-এর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই সূচকটি বৈশ্বিক চলাচলের বৈষম্যকেও স্পষ্ট করে তুলেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম


















