পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক বিদেশি কূটনীতিককে জড়িয়ে ধরার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্ট সমালোচনার জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আচরণের ব্যাখ্যা দেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত রিসেপশনে বিদেশি কূটনীতিক ও বন্ধুরা এসেছিলেন। ঈদের দিনে মানুষ খোলা মনে সবার সঙ্গে মেশে, আমিও মিশেছি। এটাকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে, তা আশ্চর্যজনক।
তিনি এই আচরণের পক্ষে নবীজির সুন্নতের উদাহরণ টেনে বলেন, নবীজি তার প্রিয়তম সাহাবির সঙ্গে এমনটি করেছিলেন। এটি আমার নবীর প্রিয় সুন্নত, আর আমি আমার নবীর প্রতিটি সুন্নতকে ভালোবাসি। কে কী বলল বা না বলল, তাতে আমি গুরুত্ব দেই না। মানুষ হিসেবে ভুল করলে আমি অনুতপ্ত হব, কিন্তু আমার শুদ্ধ কাজকে ভুল হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
একই অনুষ্ঠানে গত ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে অলি আহমদকে নিয়ে দেওয়া তার বিতর্কিত বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দেন জামায়াত আমির। তৎকালীন নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেছিলেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল এবং অলি আহমদই সবার আগে ‘উই রিভল্ট’ বা বিদ্রোহ করেছিলেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম তিনি বিদ্রোহ করেছেন, আর বেকুবরা বুঝেছে তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। এটা নিয়ে অহেতুক হইচই করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মূল ইস্যুকে আড়াল করার জন্য একটি পক্ষ চায়ের কাপে তুফান তুলে মিথ্যা বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেত এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম





















