রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

জালভর্তি ইলিশ তবু দাম চড়া

জালভর্তি ইলিশ তবু দাম চড়া

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন বাজারে ছোট সাইজের প্রতি কেজি জাটকার দাম ৯০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার এবং দেড় কেজির বেশি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। অথচ চট্টগ্রামের উপকূলে গত জুলাইয়ে দেড় হাজার টনের বেশি প্রায় ৩৫ লাখ ইলিশ ধরা পড়েছে। চলতি আগস্টেও একই পরিমাণে ইলিশ আহরণ করা হচ্ছে। অথচ বাজারে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বাজারে এখনো ইলিশ চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। 


চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূল ও নদী থেকে ১ হাজার ৫৭২ টন ইলিশ ধরা পড়েছে। সংখ্যায় এই ইলিশের পরিমাণ ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৮টি। সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে চট্টগ্রাম নগরের উপকূলে এবং সীতাকুণ্ডের সন্দ্বীপ চ্যানেলে। মোট আহরণের প্রায় ৮০ শতাংশই সাগরের ইলিশ। তা ছাড়া গত মাসে সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে ৩ লাখ ৯ হাজার ৪০০টি ইলিশ আহরণ করা হয়েছে।এর পরিমাণ ১০৩ মেট্রিক টন। 

জুলাইয়ে চট্টগ্রামে আহরিত মোট ইলিশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এসেছে সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে। আন্দরকিল্লা মোড়ে ইরশাদুল আলম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘বিক্রেতারা ফালি ফালি করে ইলিশ সাজিয়ে রাখছেন। কিন্তু দাম আকাশচুম্বি। 

দাম দেখে না কিনেই চলে যাচ্ছি।’ 


চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, এখন মাছ আহরণ করা হচ্ছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় কম। তবে সামনে আরও বেশি পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়বে। তখন দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু বর্তমানে তো আগের তুলনায় জেলেদের জ্বালানি তেলসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই হয়তো দামও একটু বেশি। 

নগরের রানী রাসমণি ঘাট এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে প্রতি মণ ইলিশ ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঘাটেই প্রতি কেজি ইলিশের দাম পড়ছে ৬২০-৬৪০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয় পরিবহন, আড়তদারি ও অন্যান্য খরচ। ফলে খুচরা বাজারে দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে। মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলছেন, ইলিশ আহরণে তাদের খরচ বেড়েছে।


বিশেষ করে জ্বালানি তেলসহ নৌকা পরিচালনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাছ ধরতে আগের তুলনায় বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে আহরিত ইলিশ বাজারজাত করতে সেই বাড়তি খরচও দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।


এদিকে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে অমাবস্যার জো (জো মানে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে নদী বা সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠার সময়) চলছে। এ সময় সাগর ও নদীতে মাছের চলাচল এবং আহরণের সুযোগও বাড়ে। তাই জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ পাচ্ছেন। এখন যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তা আকারে ছোট। ৫০০ গ্রামও হবে না। এমন ইলিশের দামও কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।


সম্পাদক : আবদুল মাতিন