বাংলা কবিতার আকাশে তিনি এক নিঃসঙ্গ নক্ষত্র। তাঁর কবিতায় বাংলার প্রকৃতি, ধূসর জীবন, হারানো সময় আর অনন্ত বিষণ্নতা পেয়েছে অনন্য রূপ।
মৃত্যুর সাত দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর কবিতার মায়াবী জগত্ আজও পাঠককে টানে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি।
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্বপুরুষ বিক্রমপুরে বসবাস করতেন। মা কবি কুসুম কুমারী দাশ ও বাবা সত্যনানন্দ দাশ। ব্রজমোহন স্কুল থেকে এসএসসি, ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন জীবনানন্দ দাশ। পেশাগত জীবনে ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অধ্যাপনা শুরু করেন কলকাতা সিটি কলেজে। এরপর পর্যায়ক্রমে দিল্লির রামযশ কলেজ, ব্রজমোহন কলেজ, বাগেরহাট কলেজ, হাওড়া গার্লস কলেজ, খড়গপুর কলেজে অধ্যাপনা করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কবি কলকাতার হাওড়া কলেজে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রকৃতি, প্রেম, নিঃসঙ্গতা, স্মৃতি ও মানবজীবনের গভীর অনুভব তাঁর কবিতার প্রধান অনুষঙ্গ।
রবীন্দ্র প্রভাবের বাইরে নিজস্ব কাব্যভাষা, চিত্রকল্প ও দর্শন নির্মাণ করে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন তিনি।
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বনলতা সেন’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘মহাপৃথিবী’ ও ‘সাতটি তারার তিমির’। জীবদ্দশায় যথাযথ স্বীকৃতি না পেলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর কবিতা বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে।
বাংলার নিসর্গ ও মানুষের অন্তর্গত বিষণ্নতার অনন্য রূপকার হিসেবে জীবনানন্দ দাশ আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক | বাংলাবাজার পত্রিকা.কম






















